চিনিকলকে লাভজনক করার উদ্দ্যোগ বিএসএফআইসির

সবুজ, প্রিন্স: দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করে দেশের চিনিকলগুলোকে লাভজনক করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি)। এ জন্য সরকার দেশের ১৫টি চিনিকলের আধুনিকায়ন ও বহুমুখীকরণে সংস্কারে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানালেন বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান এ কে এম দেলোয়ার হোসেন। সম্প্রতি ঢাকানিউজ২৪কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি চিনিশিল্পের উন্নয়নে নানা কর্ম পরিকল্পনার কথা জানান।

চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজধানীর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দপ্তর ছেড়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ছুটে বেড়িয়ে ১৫টি চিনিকল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এ কে এম দেলোয়ার হোসেন। চিহ্নিত করেছেন চিনিকলের প্রকৃত সমস্যাগুলো। আখ চাষিদের ঘরের দরজায় হাজির হয়েছেন তিনি। তাদের সমস্যার কথা শুনেছেন। চিনিকলের কেউ আখ চাষিদের হয়রানি করলে তা সরাসরি জানাতে নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দিয়েছেন। সরকারি চিনিকলের আধুনিকায়নে স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হতে চলেছে এবার। এভাবে সরকারি চিনিকলের উন্নয়নে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন তিনি।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘২০১৪ সালে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমার প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল বিএসএফআইসির আওতাধীন বিভিন্ন চিনিকলের গুদামে পড়ে থাকা অবিক্রীত চিনি বিক্রি করা। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর নির্দেশে এসব চিনি বিক্রিতে বিভিন্ন কৌশল নেওয়া শুরু করি। সরকারি চিনিকলগুলোতে উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কমে চিনি বিক্রি করা হতো। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুনভাবে সরকারি চিনিকলের চিনির দর নির্ধারণ করি।’

বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করি। অপরিশোধিত চিনি (র সুগার) আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই একমতে পৌঁছান। সরকারি চিনিকলে উৎপাদিত চিনির দর ৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৪ টাকা নির্ধারণ করি। এরপর ৪৮ টাকা। শেষ পর্যন্ত মিল গেটে চিনির দর ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছি। সরকারি চিনি বিক্রির কৌশলে পরিবর্তন আনি। উন্নতমানের প্যাকেটে করে চিনি বিক্রিতে উদ্যোগ নিই। মুদি দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় শপিং মলে সব জায়গায় ছড়িয়ে দিই সরকারি চিনি কলের চিনি। সরকারি চিনির চাহিদা বাড়তে থাকে। গুদামে পড়ে থাকা সব সরকারি চিনিকলের চিনি বিক্রি হয়ে যায়। এসব চিনি বিক্রি করায় সরকারের অতিরিক্ত আয় হয় ৩৪০ কোটি টাকা। এসব চিনি বিক্রি করতে সক্ষম হওয়ায় চিনিশিল্প বড় ধরনের লোকসান থেকে রক্ষা পায়।’

এ কে এম দেলোয়ার হিসাব কষে জানান, রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি) এবং ভ্যাট আরোপের আগে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টন অপরিশোধিত চিনি আমদানির বিপরীতে সরকারি রাজস্ব আয় হয় প্রায় ৩৯০ কোটি টাকা। রাজস্ব আরোপের পরে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট ২১ লাখ ১৬ হাজার ৩৯৮ টন অপরিশোধিত চিনি আমদানির বিপরীতে সরকার প্রায় ১ হাজার ৭৯১ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব আয় করে। এর পরের বছর ২১ লাখ ৩ হাজার ৪১৫ টনে তা দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮ লাখ ৩৩ হাজার ২৬৫ টন অপরিশোধিত চিনি আমদানির ফলে সরকারের রাজস্ব আয় হয় প্রায় ১ হাজার ৩৪৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

এ কে এম দেলোয়ার বলেন, চিনি উৎপাদনে কাঁচামাল হিসেবে আখের পাশাপাশি সুগার বিট এবং অপরিশোধিত চিনি ব্যবহারে সারা বছর উৎপাদনে থাকবে সরকারি ১৫ চিনিকল। বহু পুরনো যন্ত্রপাতি মেরামত এবং নতুন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এসব কারখানায়। আখে চিনি আহরণের মাত্রা ৮ শতাংশের ওপরে আসবে। এসব উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সরকারি চিনিকলের লোকসান কাটিয়ে উঠে লাভজনক করা সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি।