দুর্ঘটনায় সড়কে প্রাণ গেলো ৩৪ জনের

নিউজ ডেস্ক: শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৮ জন এবং রংপুরে ছয় জন। এছাড়াও গোপালগঞ্জে তিন জন এবং সিরাজগঞ্জ, নাটোরে ও ফরিদপুরে দুই জন করে নিহত হয়েছেন। সাভারে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

গাইবান্ধায় নিহত ১৮

গাইবান্ধার রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পলাশবাড়ির মহেশপুর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৩ জন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শনিবার (২৩ জুন) ভোর পৌনে ৫টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওসি বলেন, ‘আলম এন্টারপ্রাইজ নামে একটি যাত্রীবাহী বাস পঞ্চগড়ের উদ্দেশে যাচ্ছিল। রাস্তায় বাসটি রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পলাশবাড়ির মহেশপুর এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ৩০ জন।’

তিনি আরও জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পথে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও সাতজন মারা গেছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

আহতদের পলাশবাড়ি উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্স, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজসহ বিভ্ন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ওসি।

রংপুরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৬

রংপুরে ভোরে রংপুরের পাগলাপীরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ছয় জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। তারাগঞ্জ থানার ওসি জিন্নাত আলী দুর্ঘটনায় হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার সময় ট্রাকের চালক ঘুমিয়ে ছিল এবং হেলপার বাস চালাচ্ছিল বলেও জানান তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাগলাপীর সলেয়াশা এলাকায় আজ শনিবার (২৩ জুন) ভোরবার প্রায় সাড়ে ৩টার দিকে দিনাজপুর থেকে ঢাকাগামী বিআরটিসি’র দ্বিতল বাস সড়কে দাঁড়িয়ে পেছনের চাকা পরিবর্তন করছিল। বাসের যাত্রীরা এসময় সড়কে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তখন পেছন থেকে বালুবোঝাই একটি ট্রাক এসে সড়কের ওপর বসে থাকা যাত্রীদের চাপা দিয়ে বাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই নারীসহ ছয় জনের মৃত্যু হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১০ জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিহতদের শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে এবং এ কারণে তাদের কাউকেই চেনা যাচ্ছে না বলে চিকিৎসক ও স্বজনরা জানিয়েছে। এদের মধ্যে নিশাত নামে একজনকে শনাক্ত করেছেন তার স্বজনরা। তার বাড়ি দিনাজপুরে। পুলিশ আরও জানান, বাসটিতে শতাধিক যাত্রীর মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন গার্মেন্টকর্মী। ট্রাকটি আটক করেছে পুলিশ। তবে ড্রাইভার ও হেলপার পালিয়ে গেছে।

এদিকে তারাগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তা সাইফুল জানান, ‘বালু বোঝাই ট্রাকটি চালাচ্ছিল ট্রাকের হেলপার, আর ড্রাইভার ট্রাকের মধ্যে ঘুমিয়েছিল। হেলপার দ্রুত বেগে গাড়ি চালানোর কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে ট্রাকটি। এসময় এটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের ওপর উঠে যায় এবং দ্বিতল বাসটিকে ধাক্কা দেয়।’

সিরাজগঞ্জে নিহত ২

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় ট্রাকের চালক ও হেলপার নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন বাসযাত্রী। শনিবার (২৩ জুন) ভোর পৌনে ৬টার দিকে জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার কালিকাপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ট্রাকচালক শফিকুল ইসলাম (৩৫) সলঙ্গা থানার শামপুর গ্রামের জসিম ফকিরের ছেলে এবং হেলপার রফিকুল ইসলাম (২৫) একই গ্রামের দোহা শেখের ছেলে।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী ও উপ-পরিদর্শক মো. আশরাফ আলী জানান, মহাসড়কের কালিকাপুর এলাকায় স্থানীয় বালু পরিবহনকারী ট্রাক (যশোর-ড-১১-০৮৮৩) অবৈধভাবে ওভারটেকিং করার সময় ঢাকা থেকে (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-০০৮১) বগুড়াগামী আর কে পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাকের চালক ও হেলপার ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন কমপক্ষে ১০ বাস যাত্রী।

খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় লাশ দু’টি উদ্ধার করে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানায় নিয়ে আসে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হয়। সকাল ৮টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুলিশ বাস ও ট্রাক দু’টি জব্দ করলেও বাসের চালক-হেলপার পালিয়েছে।

গোপালগঞ্জে নিহত ৩

গোপালগঞ্জের সদর উপজেলা ও মুকসুদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিন জন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার ঘোনাপাড়ায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি ভ্যান, রিকশা ও থ্রিহুইলারে ধাক্কা দেয়। এ সময় দুই জন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টুঙ্গিপাড়া থেকে ছেড়ে আসা গোপালগঞ্জগামী একটি লোকালবাস ঘোনাপাড়া মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা রিকশা,ভ্যান,থ্রিহুইলারকে থাক্কা দিয়ে ট্রাফিক আইল্যান্ডে গিয়ে সজোরে ধাক্কা লাগায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের চাপায় ২ জন নিহত হন এবং আহত হয় অন্তত ২০ জন। আহত ১০ জনকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে বাসচাপায় লোকমান শেখ (৫০)এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ বাসযাত্রী। মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল পাশা বাংলা ট্রিবিউনকে একথা জানিয়েছেন। শনিবার (২৩ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দাসেরহাট নামক স্থানে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ওসি জানিয়েছেন, খুলনা থেকে ঢাকাগামী হামীম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস খুলনাগামী বনফুল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে ইঞ্জিনচালিত ভ্যানকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ভ্যানচালক মারা যান। এছাড়া বাসটি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসের অন্তত ১০ যাত্রী আহত হন

নাটোরে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ২

নাটোরে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং অপর তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত শ্রীমতি সুলতা রাণী (৪৫) জেলার নলডাঙা উপজেলার সোনারদি গ্রামের শ্রীমঙ্গল দেবনাথের স্ত্রী এবং কানাই চন্দ্র (৪০) একই উপজেলার সোনাতালপুর গ্রামের কার্তিক চন্দ্রের ছেলে। আহতরা হলেন নিহত সুলতার মেয়ে আখি রাণী (২০), স্বামী শ্রীমঙ্গল দেবনাথ(৫৫) এবং অটোচালক শহরের তেবাড়িয়া এলাকার আমানুল্লার ছেলে আবুল কালাম (৪৮)।

নাটের ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মহিউদ্দিন জানান, শনিবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শহরের কমলা সুপার মার্কেটের সামনে নাটোরগামী একটি ট্রাকের সঙ্গে একটি অটেরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই অটোর দুই যাত্রী নিহত এবং তিনজন আহত হয়। খবর পেয়ে নাটোর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

সদর থানার এসআই রুবেল এবং ওসি মশিউর রহমান জানান, ঘাতক ট্রাকটি আটক করা গেলেও চালক ও হেলপারকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

ফরিদপুরে বাস খাদে পড়ে নিহত ২

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটি বাস খাদে পড়ে চালক ও হেলপার নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন ভাঙ্গা উপজেলার পূর্ব সদরদি এলাকায় শনিবার (২৩ জুন) সকাল ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, তুহিন পরিবহন নামের একটি বাস বরিশাল থেকে বগুড়া যাচ্ছিল। সকাল ৯টার দিকে ভাঙ্গায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পূর্ব সদরদি এলাকায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই বাসের চালক ইব্রাহিম (৩৮) ও হেলপার হাফিজ (৩২) নিহত হন। এ সময় আহত হন কমপক্ষে ২০ জন। তাদের ভাঙ্গা হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে। নিহত দুই জনের বাড়ি নাটোর জেলায়।

ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ওসি এজাজুল ইসলাম জানান, লাশ দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

সাভারে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ

সাভারে একটি যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। আহতদের মধ্যে পাঁচ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের উদ্ধার করে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালসহ স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ জুন) সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে । তবে আহতদের মধ্যে আরও তিনজন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে মারা গেছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানালেও পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রংপুর থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস সাভারের আমিনবাজার এলাকায় এসে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে মহাসড়কের পাশের একটি ইটের স্তূপের ওপ আছড়ে পড়ে। এসময় ঘটনাস্থলেই এক যুবক নিহত হন। এছাড়াও বাসের ভেতর থাকা আরও ২০ যাত্রী আহত হন। তাদের উদ্ধার করে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দীসহ আশপাশের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার এসআই এনামুল হক বলেন, নিহত একজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর আর কেউ মারা গিয়েছে কিনা এ বিষয়ে নিশ্চিত করে তিনি কিছুই জানাতে পারেনি। এঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।