গাজীপুরে গণগ্রেফতার বন্ধ করুন: হাসান সরকার

নিউজ ডেস্ক: গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের পরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে গণগ্রেফতার বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার।

শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালে একাধিক পথসভায় অংশ নিয়ে এ দাবি জানান তিনি।

দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাতে এসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও গতকাল গাজীপুরের বিভিন্ন পথসভায় অংশ নিয়ে গণগ্রেফতার বন্ধের দাবি জানান।

তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিতে পারলে গাজীপুরে বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন।

গণসংযোগকালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাসান সরকার বলেন, দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার আন্দোলনের জন্য গাজীপুর সিটির নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নেতাকর্মীদের ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থেকে ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে ক্ষমতাসীন দলকে ইঙ্গিত করে হাসান সরকার বলেন, এটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয়। তাই জনগণের রায়কে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। গণগ্রেফতার বন্ধের ব্যাপারে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সকাল ৯টায় ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোগরখাল এলাকায় পথসভার মধ্য দিয়ে গণসংযোগ শুরু করেন হাসান সরকার। টিঅ্যান্ডটি কলোনি জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের সঙ্গে তিনি কুশল বিনিময় করেন। নামাজের আগে ভোট চেয়ে বক্তব্যও রাখেন তিনি। এরপর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের যোগীতলা নতুন বাজার, চান্দনা মোশারফের স্কুল (দক্ষিণপাড়া), ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়ীয়ালী নগপাড়া মণ্ডলবাড়ী মসজিদ, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীম উদ্দিন মার্কেট, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইটাহাটা রাস্তার মুখ, হক মার্কেট ও কাউন্সিলর ফয়সাল সরকারের অফিস প্রাঙ্গণে পথসভায় অংশ নেন হাসান সরকার।

এ সময় বিএনপি মনোনীত এই মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মীর নাছির উদ্দিন, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান লালুসহ অনেকে।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ সময় বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য একটা বিশেষ পরীক্ষা। দেশে জাতীয় নির্বাচন কীভাবে হবে, আদৌ হবে কি-না তা নির্ধারণ হবে সিটি নির্বাচনের পরিস্থিতি থেকে।

জনগণ ভোট দিতে পারলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবে বলে দাবি করে বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতা আরও বলেন, নির্বাচনের দিন পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবেন। তারপর অবস্থা বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে গ্রেফতার বন্ধের দাবি জানান খন্দকার মোশাররফ।

কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রচারণা : বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ধানের শীষের মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী ড. মাজহারুল আলম জানান, শুক্রবারও গাজীপুর সিটির ৫৭টি ওয়ার্ডে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত ৫৭টি টিম।

প্রচারে অংশ নিয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বরকতউল্লাহ বুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামান মনির এবং কেন্দ্রীয় নেতা আবুল কালাম আজাদ, সাবেরা আলাউদ্দিন, ওমর ফারুক শাফিন, একরামুল হক বিপ্লব, সালাহ উদ্দিন ভূইয়া শিশির, ড. ফরহাদ হালিমসহ দুই শতাধিক কেন্দ্রীয় নেতা।