কর্মচারি হয়ে নগরবাসীর সেবা করতে চাই: জাহাঙ্গীর

নিউজ ডেস্ক: ভোটে জিতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে নয়, কর্মচারি হয়ে নগরবাসীর সেবা করতে চান বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম।

শুক্রবার নগরীর চান্দনা চৌরাস্তা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজে অংশ নিয়ে খুতবার আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এমন প্রতিশ্রুতি জানান।

গাজীপুরবাসীর নাগরিক ভোগান্তি দূর করতে মেয়র পদে প্রার্থিতা করছেন দাবি করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি গাজীপুরকে একটি আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন বুকে লালন করছেন। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন পূরণের পথ প্রশস্ত করেছেন। এবার স্বপ্ন বাস্তবায়নে গাজীপুর মহানগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন জাহাঙ্গীর।

নামাজ শেষে খুলনা সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক সঙ্গে নিয়ে চন্দনা চৌরাস্তা এলাকায় গণসংযোগ চালান অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক এ সময় বলেন, গাজীপুরে সব সময় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও মডেল নির্বাচন হবে। ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারবে। প্রত্যেক প্রার্থীর ভোটারদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন জাহাঙ্গীর।

এ সময় খুলনার মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক সাংবাদিকদের বলেন, গাজীপুরে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে গাজীপুরবাসী নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বলেও দাবি করেন বর্ষীয়ান এই নেতা।

এর আগে সকাল ৯টায় নগরীর ছয়দানা এলাকার নিজ বাস ভবনের উঠানে তাবলিগ জামাতের মুরব্বি ও সাথীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে প্রচার কার্যক্রম শুরু করেন জাহাঙ্গীর আলম।

নগরীর ১ হাজার ৮০০ মসজিদের ইমাম, সাড়ে ৪০০ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিশ্ব ইজতেমা সংশ্লিষ্ট সকল মুসল্লি এবং স্থানীয় শিল্পকারখানার সকল শ্রমিক-কর্মচারি তার সঙ্গে আছে বলে দাবি করে আওয়ামী লীগ মনোনীত আলোচিত এই মেয়র প্রার্থী বলেন, আগামী ২৬ জুন তিনি লাখ লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন।

তাবলিগের মুরব্বি এ সময় বিশেষ মোনাজাতে জাহাঙ্গীর আলমের সাফল্য কামনা করেন।

দিনভর বিরামহীন প্রচারণা: শুক্রবারও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনভর প্রচার চালান অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম। ১৩নং ওয়ার্ডের কলাবাগান, ২০নং ওয়ার্ডের মজলিশপুর, ২২নং ওয়ার্ডের বাংলাবাজার, ২১নং ওয়ার্ডের বিপ্রবর্থা, ২৩নং ওয়ার্ডের খালপাড়া, ১৬নং ওয়ার্ডের আখতার মার্কেট, ১৮নং ওয়ার্ডের টিঅ্যান্ডটি রোড এবং বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের সামনে, শাপলা ম্যানশন ও অনুপম সুপারমার্কেটের সামনে পথসভায়ও অংশ নেন অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর। এছাড়া টঙ্গীতে নগর আওয়ামী লীগের যৌথসভায়ও অংশ নেন তিনি।

সবার জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে ভোট দিন। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পিত শহর গড়ে তুলব।’

কেন্দ্রীয় নেতারাও ছিলেন মাঠে: অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে এদিনও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালিয়েছেন আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। জাহাঙ্গীরের সঙ্গে গণসংযোগে অংশ নিয়েছেন খুলনার মেয়র তালুকদার খালেক। এছাড়া স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন সকালে টঙ্গীতে এবং জুমার নামাজ শেষে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালান।

ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শুক্রবার ৩১, ৫০ ও ৫৪নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ চালান এবং লিফলেট বিতরণ করেন। ২৬নং ওয়ার্ডের দলীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণী সভায় যোগ দেন। এ ছাড়া ওলামা লীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আখতার হোসেন বোখারী ও টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম তালুকদার যথাক্রমে পুবাইল ও টঙ্গীতে প্রচারণা চালান।