দুস্থ পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ

বল প্রয়োগে বাস্তুচ্যুত ১১ লক্ষাধিক মিয়ানমার নাগরিক কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। এর ফলে কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলাসহ আশপাশের উপজেলার লোকজন বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এসকল বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকের আশ্রয়ের ফলে স্থানীয় এলাকায় বাজার মূল্য, শ্রমবাজার, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণের ওপর ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করে ঈদুল ফিতরের পূর্বে তাদের সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ তহবিল থেকে কক্সবাজার জেলায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

এ অর্থের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার ৩৩ হাজার ৩৩৪ পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তাসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পোলাও চাল, সেমাই, চিনি, সয়াবিন তেল, গুড়াদুধ, রোজার শরবত ইত্যাদি। প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ২ হাজার টাকা করেও প্রদান করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীরবিক্রম, আজ উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় উপস্থিত থেকে দুস্থ ও গরীব পরিবারদের এ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। এ উপলক্ষে উখিয়া উপজেলার বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মহিলা কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীব ও দুস্থ মানুষের পাশে আছেন বলেই তিনি মমতাময়ী মা হিসেবে বিশ্বে পরিচিত। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা নাগরিকদের আগমনের ফলে উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় অধিবাসীদের যে ক্ষতি হয়েছে সরকার সে সম্পর্কে সচেতন রয়েছে। শীঘ্রই রোহিঙ্গা নাগরিকদের ভাষাণচরে স্থানান্তর করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মিয়ানমার নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার মধ্যেই রয়েছে একমাত্র সমাধান।

কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় যেসব অধিবাসী পাহাড়ের ঢালে বসবাস করছেন অতিদ্রুত তাদেরকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য মন্ত্রী জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মোঃ শাহ কামাল, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আঃ মান্নান, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্স, ঢাকা নিউজ২৪