রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে নিহত ১১

নিউজ ডেস্ক: রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচরে পাহাড় ধসে ১১জন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে নানিয়ারচর উপজেলার পৃথক ৫টি গ্রামে এঘটনা ঘটে। গ্রামগুলো হলো-নানিয়ারচর উপজেলার বুড়ীঘাট, ধরমপাশা, আমতলী, বড়পুল ও ছড়াইপাড়া গ্রাম।

রাঙামাটি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপশ শীল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে তাৎক্ষণিক নিহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। প্রশাসনের একটি দল উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া টানা বর্ষণে নানিয়ারচর উপজেলার ইসলামপুরে-৪৫টি, বগাছড়িতে-৪২ ও বুড়িঘাটে-একটি স্থানে পাহাড় ধস হয়েছে। এসব এলাকায় মানুষের বাড়ি-ঘরের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২১টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাহাড় ঘেষে বসবাসরত মানুষদের মাকিং করে নিরাপদ স্থানে সড়ে যেতে বলা হচ্ছে। টান বর্ষণে পাহাড় ধসের আতঙ্কে ঘর ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ।

নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কোয়ালিটি চাকমা জানান, রাতে ভারি বৃষ্টিতে পাহাড় ভেঙ্গে মাটিচাপা পড়ে বুড়িঘাট ইউনিয়নে ছয়জন ও নানিয়ারচর ইউনিয়নে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে উপজেলার ৩নং বুড়িঘাট ইউনিয়নের ধরমপাশা কার্বারি পাড়ার স্মৃতি চাকমা (২৩) ও তার ছেলে আয়ুব দেওয়ান। এছাড়া বাকিদের নাম পরিচয় জানতে পারিনি।

জানা গেছে, গত ৪দিনের টানা বর্ষণে তছনছ হয়ে গেছে রাঙামাটি। পাহাড় ধসে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে অসংখ্য বাড়িঘর। ধসে পড়ছে পিলার, বাড়ি-ঘরের প্লাস্টার ও সীমানা পাচির। সড়কে সড়েকে জমেছে মাটির স্তুপ। উপছে পড়েছে গাছ পালা। বৃষ্টির পানি পড়ার কারণে বৈদ্যতিক খুঁটিগুলো থেকে ছিড়ে পড়ছে আগুন। রাত থেকে দিনে অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ বিহীন ছিল রাঙামাটি। এছাড়া শহরের রাঙামাটি চেম্বার অব কর্মাস ভবনের পাশ্ববর্তী সড়ক, সিনিয়র মাদ্রাসার পাশ্ববর্তী দেয়াল ও চম্পকনগর এলাকায় পরিবার পরিকল্পনা অফিসের দেয়াল, টিটিসি, বিজিবি রোড, ডিয়ার পার্ক, ঘাগড়া, সাপছড়ি, রাঙাপানি, পুলিশ লাইন ধসের ঘটনা ঘটেছে।

রাঙামাটি সড়ক জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদ হোসেন জানান, গত চারদিনের টানা বর্ষণে রাঙামাটি জেলায় প্রায় ১২৮টি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাঁচটিরও অধিক স্থানে সড়ক ভেঙ্গে গেছে। সড়কের কংক্রিট উঠে বড় বড় খানাখন্দ আর গর্তে পরিণত হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাহাড় থেকে মাটির নেমে সড়কে স্তুপে পরিণত হয়েছে।

রাঙামাটি জেলা সিভিল সার্জেন ড. শহীদ তালুকদার জানান, নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড় ধসের ১১জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। কয়েকজনকে উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে। এখনো উদ্ধার তৎপরতা চলছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে এই দিনে রাঙামাটি পাহাড় ধসে ১২০জন মানুষ প্রাণ হারায়। আহত হয় অর্ধশতাধিক। এছাড়া সেসময় ১৪৫টি স্থানে পাহাড় ধসে সারা দেশের সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রাঙামাটি।