কেরানীগঞ্জের তৈরী পোশাক বাজার জমজমাট

এইচ এম এরশাদ কেরানীগঞ্জ: কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত। থেমে নেই মানুষের কোলাহল। যেন ক্রেতা বিক্রেতার মহাসমারোহ। সবাই ব্যস্ত। ঈদে বাজারে শেষ মূহুর্তে ও পাইকারদের ভীর মালিদের সাথে কথা বলার সময়নেই বিক্রিতে ব্যস্ত। ঈদ কেন্দ্রিক এমন বেচাকেনার ধুমধাম দৃশ্য রাজধানীর অদূরে বুড়িগঙ্গার তীরে কেরানীগঞ্জ। এটি যেন পোশাক মার্কেট-কারখানার এক বিশাল বাণিজ্য নগরী যাকে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম জাপান খ্যাত কেরানীগঞ্জের তৈরী পোশাক পাইকারী বাজারের সাথে তুলনা করা হয়। এলাকার প্রতিটি মার্কেট, দোকান কিংবা কারখানায় এখন শুধু রঙ-বেরঙের পোশাক। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পাইকারি ক্রেতাদের ভিড়ে জমে উঠেছে কেরানীগঞ্জের এ পোশাক নগরী। মার্কেটের ব্যবসায়ীদের আশা, এবার তারা হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য করবেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারা দেশের চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশই পূরণ করছে কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস কারখানাগুলোর পোশাক। প্রতিটি ঈদ-পূজাসহ যেকোনো উৎসবে এখানকার কারখানায় তৈরি হয় নিত্য-নতুন ডিজাইনের পোশাক।

এবার ঈদের জন্য থ্রি-পিস, ফ্রক, মেয়েদের বাহারি পোশাক, ছোটদের রঙ-বেরঙের পাজামা-পাঞ্জাবি, বড়দের জন্য পাঞ্জাবি, জিন্সপ্যান্টসহ বিভিন্ন পোশাকের সমাহার দেখা গেছে কেরানীগঞ্জের মার্কেটগুলোতে।

কেরানীগঞ্জের আগানগরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বাহারি পোশাকের পাইকারি দোকানগুলো সাজানো হয়েছে নানা ডিজাইনের প্যান্ট-শার্ট, পাঞ্জাবি, গেঞ্জি ও থ্রি-পিস দিয়ে। দামে কম ও কাপড়ের গুনগতমান ভালো থাকায় পাইকারী ক্রেতারাও লুফে নিচ্ছেন তৈরী পোশাক। ঈদের মৌসুম এলে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে গিয়ে নির্ঘুমরাত কাটাতে হয় এখানকার পোশাক কর্মীদের। বছর জুড়েই চলে নানা ধরনের পোশাক তৈরীর কাজ। তবে ঈদ এলেই কারিগরদের হতে হয় গলদঘর্ম। কমকরে হলেও এই মৌসুমে ২০-৩০ কোটি টাকার তৈরী পোশাক কেনা-বেচা হয় বলে জানিয়েছে তৈরী পোশাক মালিকরা।

এব্যাপারে স্থানীয় একতা সুপার মার্কেটের মালিক আসাদ এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী হাজী মো. আসাদ খান বলেন, ঈদের বাজারের শেষ সময় তার পর ও পাইকারদের ভীড় ,আবহাওয়া ও ভাল এবছর মালিকরা ভালই বেচাকেনা করেছে । তিনি বলেন, পবিত্র ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে দিন রাত কাজ করে এখানকার প্রায় ২৫ সহা¯্রাধিক তৈরি পোষাক কারখানার শ্রমিকরা এখন তাদের বেতন দেওয়ার সময় তার মধ্যেও কিছু কিছু মালিক পোষাক চলা ও পাইকারের ভীড়ের কারনে নতুন করে কাজ শুরু করছে। আমাদের বড় মৌসুম, নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত মাল পাইকার ছাড়া আমাদের এ পন্য অন্য কোথায়ও বিক্রি সম্ভব নয়। রাজধানীসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমাদের অনেক বকেয়া বিল থাকার কারনে তারা প্রতি বছর এখান থেকেই পোষাক নেয়।এবং কিছু কিছু টাকা পরিশোধ করে।

পূর্ব আগানগর খাজা-সুপার মার্কেটের ওমর ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এর মালিক মোঃ নুরুল আমীন লিটন জানান, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তৈরী পোশাকের মার্কেট এটি। গত রোজার ও কোরবানীর ঈদে তাদের ব্যাবসা মোটামুটি ভালো হয়েছে। এ বছর পবিত্র ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে ক্রেতা সাধারনরা ভীড় আর ভীড়। বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় পাইকারদের আসার শেষ সময় এবছর প্রচুর মালামাল বিক্রি করতে পারছি, এখনো চাহিদা আছে। আলম শপিংমলের বেবি পয়েন্ট ফ্যাশনের সত্ত্বাধিকারী মোঃ জয়নাল দেওয়ান বলেন ঈদ মৌসুম সামনে রেখে প্রতিদিনই কোটি কোটি টাকার পোষাক কিনে নিয়ে যাচ্ছে পাইকাররা। এবছর পাইকারদের চাহিদা পূরন করতে পারিনি আরো পোষাক তৈরী করলে ভালো হতো,গত ঈদ মৌসুমে পোষাক বিক্রি করতে পারিনি জুরতে হয়েছিল ।

তিনি বলেন ক্রেতাদের রুচির কথা চিন্তা করে আমরা রুচিশীল পোশাক তৈরী করি। এখানে অত্যন্ত সহজ মূল্যে পাওয়া যাওয়ার কারণে পাইকারদের তেমন বেশি ঘেরাঘুরি করতে হয় না। তা ছাড়া রাজধানীর যেকোন পাইকারী বাজারের তুলনায় আমাদের এখানের কেনাকাটা করে পাইকার সাধারণরা কোনরকম যানজট ছাড়াই নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছতে পারে। যে কারনে দেশের প্রত্যন্তঅঞ্চলের পাইকারদের কাছে দিনদিন আমাদের কদর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পাইকার মোঃ মাসুদ হোসেন বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জ থেকে তৃতীয় ট্রীপের মালামাল কিনতে এসেছেন, তিনি জানান, এখন ছোট বাচ্চাদের পোষাকের কদর থাকায় আবারো এসেছি মালকিনতে । শেষ সময় বাচ্চাদের পোষাকের আনেক চাহিদা।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল আজিজ শেখ বলেন, এ বছর আমাদের পাইকারী বাজারের আবস্থা আনেক ভাল। মালিক শ্রমিক উভয়ের মুখে হাসি। বেচা কেনা ভালো হয়েছে। বেতন পরিশোধ করতে কোন সমস্যা হবে না এখানে কোন শ্রমিক অসন্তোষ নেই। নৌ-পথ ও সড়ক পথে দেশের যে কোন অঞ্চলে সহজে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকায় সাচ্ছন্দে পাইকাররা কেনা কাটা করে ফিরে যেতে পারছে। এবছর পাইকারদের প্রশাসনিক সহযোগিতা ও সকল সুবিধা প্রধান করায় প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান ।