৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা

নিউজ ডেস্ক: আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

প্রস্তাবিত এই বাজেটে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে মোট রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

এতে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি দাঁড়াবে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতির গড় হার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতির হার রাখা হয় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম ৭.৪ শতাংশ। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ৭.৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ করেছে। মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প সূচক জানুয়ারি ২০১৭ এর তুলনায় জানুয়ারি ২০১৮ সময়ে প্রায় ১৪.০ শতাংশ বেড়েছে। বন্যার কারণে অর্থবছরের প্রথম দিকে কৃষিখাতে উৎপাদন ব্যাহত হলেও ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও অন্যান্য সহায়ক কার্যক্রমের প্রভাবে আমন ও বোরোর উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। সার্বিকভাবে, চলতি অর্থবছরে ৪০৭ লক্ষ মেট্রিক টনের বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা আছে। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত ভোগ ও সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা শক্তিশালী হয়েছে যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রবৃদ্ধির ওপর।’

মুহিত বলেন, ‘তদুপরি, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও বাণিজ্যে প্রাণসঞ্চারের ফলে আমাদের রপ্তানি, প্রবাস আয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যা আমাদের প্রবৃদ্ধির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

বৃহস্পতিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরুর পর অর্থমন্ত্রী প্রথমেই চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট উপস্থাপন করেন। এরপর আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী।

এটি দেশের ৪৭তম ও আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯তম ও অর্থমন্ত্রী মুহিতের দ্বাদশ বাজেট। একইসঙ্গে এটি আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান মেয়াদের পঞ্চম ও শেষ এবং মুহিতের টানা দশম বাজেট। অর্থমন্ত্রী হিসেবে টানা দশটি বাজেট দেওয়ার রেকর্ড বাংলাদেশে এই প্রথম। এরশাদ সরকারের আমলে দু’বার বাজেট দিয়েছিলেন মুহিত।