মার্কো অ্যাসেনসিও বিশ্বকাপের মুখ

নিউজ ডেস্ক: মার্কো ফন বাস্তেন। মনে আছে এই ডাচ কিংবদন্তির কথা। আশির দশকের পর নেদারল্যান্ডসের হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন। তিন-তিনবার তার হাতে উঠেছে ব্যালন ডি’অরের মুকুট। ১৯৯২ সালে ফিফার বিশ্বসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। উয়েফার সেরা ফুটবলারও হয়েছেন তিনবার। সবমিলে ক্লাব আর জাতীয় দলের জার্সিতে তার শোকেসে জমা পড়েছে পঞ্চাশের অধিক খেতাব। এমন একজন ফুটবল সুপারস্টারের মাঝে নিজের ছেলে মার্কো অ্যাসেনসিওর ছায়া দেখতেন তার বাবা গিবার্তো অ্যাসেনসিও।

ছোটবেলা থেকেই বড় আদরের ছিলেন মার্কো। খুব স্নেহ করেই তাকে ‘গোল্ডেন বয়’ বলে ডাকা হতো। জন্মের পর অ্যাসেনসিওর মা তার নামটাও মার্কো ফন বাস্তেনের সঙ্গে মিলিয়ে রাখেন। মায়ের দেওয়া নাম ভীষণ পছন্দ হয় অ্যাসেনসিওর বাবার। বয়স যখন পাঁচ তখন মার্কোর বাবা তাকে একটি ফুটবল উপহার দিয়েছিল। সেখান থেকেই ফুটবলের প্রতি তার প্রেম জন্মে। স্বপ্ন দেখেন ফুটবল নিয়ে বাঁচার।

পড়াশোনার পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলাটা নিয়মিত রুটিনে থাকত। এমনকি রাতে ঘুমানোর সময়ও নাকি ফুটবল পাশে থাকত। শৈশব থেকে ফুটবলের প্রতি এতটা দরদ দেখে তার বাবা বেজায় খুশি। ছোট্ট মার্কো যাতে দ্রুত ফুটবল আয়ত্ত করতে পারে, সে জন্য তার বাবা তাকে স্থানীয় একটি একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দেন। দৈনন্দিনের পড়াশোনার বাইরে ফুটবলের নানা কৌশলও শিখতে থাকেন মার্কো।

ধীরে ধীরে তার বয়স বাড়তে থাকে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফুটবল-অধ্যায়টাও ঠোঁটস্থ করতে থাকেন মার্কো। এক পর্যায়ে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের প্রতি তার ভালোবাসা জন্মে। শুরুর দিকে টেলিভিশনে লস ব্লাঙ্কোসদের খেলা দেখেন। আর মনে মনে নিজের স্বপ্নটা লালন-পালন করতে থাকেন। একদিন পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে বের হন মার্কো। সেখানে এক ভদ্রলোকের সঙ্গে দেখা। নাম ফ্লোরেনটিনো পেরেজ। শুরুতে মার্কো তাকে দেখে চিনতে পারেননি। কিন্তু তার মা যখন বলেন ইনি রিয়ালের প্রেসিডেন্ট; তখনই চমকে যান মার্কো। তার কাছে সেদিন মনে হয়েছে যে স্বপ্নের অনেক কাছে চলে এসেছেন।

পেরেজের সঙ্গে আলাপ করার একপর্যায়ে একটা ছবিও তুলে নেন মার্কো। পরে সেই ছবিটি নিজের টুইটারে প্রকাশ করে অনেকটা আলোচনায় চলে আসেন তিনি। সেদিন পেরেজও মার্কোকে আশার বাণী শোনান। আমার মন বলছে, এই ছেলে একদিন রিয়াল মাদ্রিদে খেলবে। রিয়াল প্রধানের এ কথা শুনে তরুণ মার্কো আরও বেশি উচ্ছ্বসিত। এরপর ফুটবলে আরও বুঁদ হয়ে যান মার্কো।

২০০৩ সাল, হঠাৎ তার দুয়ারের কড়া নাড়লেন এক পোস্টম্যান। খবর স্পেনের ক্লাব কালভিয়া তাকে ডেকেছে। দিন দুয়েক পরই ছুটে যান মার্কো। সঙ্গে ছিল তার বাবা। সুখবর, ছেলে চান্স পেয়েছে। বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে হাজির তিনি। ধুমধাম করে সাবাইকে মিষ্টিমুখ করান। সেখান থেকে স্পেনের অনূর্ধ্ব ১৬ দল। এক এক করে অনূর্ধ্ব ২১ দলে দারুণ নৈপুণ্য দেখান অ্যাসেনসিও।

২০১৪ সালের কথা, এক শীতের সকালে মার্কোর ব্যক্তিগত এজেন্ট খবর নিয়ে এলো, তাকে রিয়াল চাচ্ছে। এই খবরে পুরো বাড়িতে রীতিমত উৎসবের আমেজ। শেষমেশ পেরেজের ফোনকল পান মার্কো। সেখানেই তাকে গ্রিন সিগনাল দেন রিয়াল সভাপতি। এরপর ওই বছরের নভেম্বরে মার্কোকে দলেও ভেড়ায় রিয়াল। স্প্যানিশ লীগে নাম লেখানোর পর বল পায়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন মার্কো। অল্পদিনেই স্পেন জাতীয় দলের হর্তাকর্তাদের নজরে কাড়েন। ২০১৬ সালে তার গায়ে ওঠে দেশের জার্সি। এ বছর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপেও খেলতে যাচ্ছেন অ্যাসেনসিও।