দায়সারা আয়োজনে বিসিক মেলা ক্রেতাদের মাঝে সাড়া ফেলতে পারছে না

ওয়াহিদুজ্জামান: বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) আয়োজিত মেলা ক্রেতাদের মাঝে তেমন সাড়া ফেলতে পারছে না। তারপরও প্রতি বছর দেশে বিদেশে সংখ্যা মেলার আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে যাচ্ছে। মেলার সফল না হওয়ার পেছনে বিসিকের দায়সাড়া গুছের আয়োজনের কথা বলেছেন অনেকেই। দেশিয় শিল্প বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে এমন হযরবরল কর্মকা-ে সরকারি উচ্চ পর্যয়ের মনোযোগের কথা বলেছেন তারা।

মাত্র কিছু দিন আগে ভারতে হয়ে গেল আন্তর্জাতিক বিসিক মেলা। গত মে মাসে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ের নিচ তলায় আয়োজন করা হয় মধু মেলা। আবার এই মাসের ২৯ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত চলছে জামদানী মেলা। একের পর এক এই সব মেলা আয়োজনে ব্যাপক প্রস্তুতি চলে। ঝাঁকজমক পর্ণ উদ্ধোধনী অনুষ্ঠান হয়। শিল্পমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি, সচিব, চেয়ারম্যানসহ দেশের গুরুত্বপর্ণ আমলাদের এই সব অনুষ্ঠানে নিয়ে আসা হয়। এদের আদর আপ্যায়ন উপহার উপটৌকনে প্রচুর টাকা খরচ করা হয়। উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানের পর মেলা চলতে থাকে কিন্তু সেখানে ক্রেতার সমাগম তেমন লক্ষ করা যায় না। কোন কোন মেলায় স্টলের অংশগ্রহণকারীদের বসে বসে ঘুমাতে দেখা যায়।

খুঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বিসিকের এই সকল মেলার আয়োজনে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে তোলার তেমন কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের সকল খাতে পর্যাপ্ত টাকা খরচ করা হলেও ক্রেতাদের প্রভাবিত করার অন্যতম মাধ্যম প্রচার প্রচারণায় উল্লেখযোগ্য ব্যয় বা কৌশল কোনটাই চোখে পড়ে না। ফলে অনেকটা নীরবেই চলে বিসিক মেলা। কিন্তু ক্রেতা বা ভোক্তারা অনেক সময় তা জানতেও পারে না।

বিসিক মেলার এই সকল বিষয় নিয়ে আমাদের অর্থনীতির পক্ষ থেকে আমরা কথা বলেছি, মেলার আয়োজক, স্টল গ্রহণকারী, উপস্থিত ক্রেতা বা ভোক্তাসহ অনেকের সাথে। তারা বলেছেন, ব্যাপক প্রচার প্রচারণা না চালিয়ে এধরনের মেলার আয়োজন কোন মানেই হয় না। বিসিক পন্য ক্রেতাদের মাঝে জনপ্রিয় করে তুলতে মেলায় যেকোন মূল্যে ব্যাপক মানুষের সমাগম করতে হবে। বিষয়টি সরকারে নীতি নির্ধারণকারীদের বিবেচনায় আনতে হবে।