পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জন করতে হবে: মান্নান

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, বিভিন্ন কারণে আমাদের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। প্লাস্টিক সামগ্রী ও পলিথিনের যত্রতত্র ব্যবহার পরিবেশের জন্য চরম হুমকি স্বরূপ। একটি হিসেব মতে বিশে^ প্রতিবছর ৫০ হাজার কোটি প্লাস্টিক ব্যাগ ও ৪৮ হাজার কোটি প্লাস্টিকের ওয়াটার বোতল তৈরি হচ্ছে। প্রতি মিনিটে ১০ লক্ষা প্লাস্টিক বোতল বিক্রি হচ্ছে। এগুলো ব্যবহারের পর নির্দিষ্টস্থানে সংরক্ষণ না করে চতুর্দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রাখার কারণে পরিবেশ মাত্রাতিরিক্ত হারে দূষণের শিকার হচ্ছে।

অসচেতনতার কারণে আমরা কিছুতেই এগুলো রোধ করতে পারছি না। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ছে। মোবাইল কোটের মাধ্যমে কারখানায় ও বড় বড় দোকানগুলো থেকে হাজার হাজার টন প্লাস্টিক-পলিথিন জব্দসহ প্রতিষ্ঠানগুলো সিলগালা করলেও উৎপাদন ও ক্রয়-বিক্রয় পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে একদিকে দেশে অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, ভ‚মিধস, তীব্র গরম ও শীত পড়ে। অন্যদিকে পরিবেশ ও ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। ফলে পরিবেশ টিকিয়ে রাখা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে পলিথিন ও প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পচনশীল পাটের ব্যাগ ও পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারলে পরিবেশ দূষণ অনেকটা রোধ হবে।

পরিবেশ ও প্রতিবেশ কোন্টি আমাদের জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে তা জানতে হবে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিবেশ বাঁচাতে পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহারের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। পাট চাষে আগ্রহীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও দিয়ে যাচ্ছেন সরকার। নিজে, পরিবার, জাতি ও এ ধরিত্রীকে দূষণের কবল থেকে বাঁচাতে প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার চিরতরে বন্ধ করতে হবে। তাহলে পরিবেশ সুন্দর থাকবে। আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঘর ও ঘরের চারপাশে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখলে পরিবেশ অনুকূলে থাকবে।

যেকোন ভাবেই হোক সুন্দর পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিক ও পলিথিন জাতীয় দ্রব্য বর্জন করতে হবে। সচেতন না হলে পরিবেশ বাঁচাতে সভা, র‌্যালি ও মোবাইল কোর্ট দিয়ে তেমন কোন সুফল আসবে না। পলিথিন ও প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে ঘর থেকেই উদ্যোগ গ্রহণ করে বিকল্প হিসেবে পাট, কাগজ জাতীয় দ্রব্য ও প্রাকৃতিক জিনিসগুলো ব্যবহারে আন্তরিক হতে হবে। জীব বৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশ বাঁচাতে প্রয়োজনে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন হল টুয়েন্টিফোরে আয়োজিত বিশ^ পরিবেশ দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের আয়োজনে দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- ‘আসুন প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করি’। পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মো. মকবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয়ের মেরিন সাইয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহদাৎ হোসেন, বন্য প্রাণি সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কর্মকর্তা এস এম গোলাম রাব্বানী ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক। আলোচনা সভা শেষে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০১৮ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কারসহ সনদপত্র ও একটি করে গাছের চারা তুলে দেন প্রধান অতিথি। অনুষ্ঠানের পূর্বে দিবসটি উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে হল টুয়েন্টিফোরে অনুষ্ঠানস্থলে এসে শেষ হয়। র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান।

প্রিন্স, ঢাকা