চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউপির গান্ধাছি গ্রামের চৌধুরী মিয়ার ছেলে পুলিশের তালিকায় চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী সোলায়মানকে গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। গতকাল মঙ্গলবার গান্ধাছি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বাঙ্গড্ডা মুন্সির হাট সড়কে এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করা হয়। মাদক ব্যবসায়ী সোলায়মানকে গ্রেফতার করতে হণ্য হয়ে খুঁজছে পুলিশ। কিন্তু তার নাগাল পাওয়া যাচ্ছে না। গ্রামবাসীও পুলিশকে তাকে দেখিয়ে দিতে সাহস করে না। 

ওই গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আক্কাস মজুমদার, সাবেক মেম্বার আবদুস সোবহান, সাবেক মেম্বার আবদুর রাজ্জাক, বর্তমান মেম্বার ইসহাক মিয়া, বাঙ্গড্ডা ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় কয়েক শ’ লোক বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করে।

এলাকাবাসী জানান, মাদক ব্যবসায়ী সোলায়মান একই গ্রামের সুফল মিয়ার ছেলে অলি উল্লাহ, ইয়াছিনের ছেলে হাছানুজ্জামান, দুলাল, রুবেল মিলে এলাকায় ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ সব ধরনের মাদক ব্যবসা করে আসছে। তারা এসব অপকর্ম করে যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা পুলিশের খাতায় চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী হলেও তাদের পুলিশ গ্রেফতার করে না। আমাদের জানা মতে তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

এলাকাবাসী আরো জানায়, বিগত ১ বছর পূর্বে তাকে আমরা গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে গ্রাম থেকে বিতাড়িত করেছিলাম। পরে সে এ সমস্ত কাজ আর করবে না বলে আবার গ্রামে ফিরে। কিন্তু আবারো সে মাদক ব্যবসা শুরু করেছে। বর্তমানে সোলায়মান র‌্যাব ও ডিবির সোর্স পরিচয় দিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও সে র‌্যাব, ডিবি পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে গ্রেফাতারের ভয় দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করে। আরো কয়েকজনকে আটকে রেখে মারধর করে। এরকম অবৈধভাবে একজনকে আটকের ঘটনায় নাঙ্গলকোট থানায় একটি মামলাও হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবুও কোন ধরনের প্রতিকার না মেলায় আমরা জড়ো হয়ে তার বিরুদ্ধে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করছি।

এদিকে পুলিশ জানায়, কয়েকটি মামলার আসামী পুলিশের তালিকায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী সোলায়মানকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। অথচ তার মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় সোমবার ভোর রাতে একই গ্রামের মৃত কালা মিয়ার ছেলে ওমর আলীর বাড়ী ঘর ভাংচুর করে সোলায়মান ও তার সাঙ্গ পাঙ্গরা। এ ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যায় নাঙ্গলকোট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব জানান, অভিযুক্ত সেলায়মানের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় মাদক আইনে দুইটি মামলা রয়েছে। অবৈধ আটক ও নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় আরো একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আমরা তাকে গ্রেফতার করতে বার বার অভিযান চালিয়েও পাইনি। তাকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহক রয়েছে।