জিয়াউর রহমানের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নিউজ ডেস্ক: দুঃস্থদের মধ্যে বস্ত্র ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ, কালো পতাকা উত্তোলন ও কবরে পুস্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছে বিএনপি।

বুধবার (৩০ মে) সকালে জিয়াউর রহমানের স্মরণে বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। গতবছর দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই দিনে শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিলেও এবার তিনি পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে।

পুস্পস্তবক অর্পণের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকের দিনে আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করে শপথ নিয়েছি এই বলে যে, আমরা গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবো এবং দেশনেত্রীকে মুক্ত করবো। দেশনেত্রীকে সরকার সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে।’

জিয়ার কবরে পুস্পস্তবক অর্পণের পর বিএনপি মহাসচিব শেরেবাংলা নগরে টিএন্ডটি খেলার মাঠে স্থানীয় বিএনপির আয়োজনে দুঃস্থদের মধ্যে বস্ত্র ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন। এ ছাড়া, রাজধানীর খিলগাঁও, কমলাপুর, শাহজাহানপুর, মতিঝিল, নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে দুঃস্থদের মধ্যে বস্ত্র ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতারা। তবে দুঃস্থদের মধ্যে বস্ত্র ও ইফতার সামগ্রী বিতরণে পুলিশের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন মির্জা ফখরুল।

দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,‘জিয়াউর রহমানের মৃত্যুকার্ষিকী উপলক্ষে দুঃস্থদের মধ্যে বস্ত্র ও ইফতার সামগ্রী বিতরণের জন্য পুলিশের অনুমতি নিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে গিয়েছিল বিএনপির প্রতিনিধি দল। কিন্তু পুলিশ এ ব্যাপারে কিছু জানায়নি। পরে রাতে ফোন করা বলা হয়েছে, আপনারা পারলে ঘরের মধ্যে করেন। দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় বস্ত্র ও ইফতার সামগ্রী বিতরণকালে ৯ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।’

সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প খোলা হয়। এর উদ্বোধন করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এই ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয় রোগীদের মধ্যে।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিকাল ৫টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় ও বাসভবনে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে দলটির সিনিয়র নেতারা অংশ নেন।

এদিকে, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ১০ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি শুরু করেছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপিসহ এর অঙ্গ সংগঠনগুলো পোস্টার প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে বিশেষ ক্রোড়পত্র।

বিএনপি ছাড়াও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল, যুবদল, কৃষকদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, তাঁতীদল, মৎস্যজীবী দল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনসসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে আলাদা আলাদাভাবে প্রয়াত জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কিছু সেনাসদস্যের হাতে নিহত হন সে সময়ের রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান।