বাংলাদেশে ৪৩% মানুষ তামাকজাত দ্রব্য সেবন করে

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: “তামাক করে হৃদপিন্ডের ক্ষয়, স্বাস্থ্যকে ভালবাসি তামাককে নয়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্যের উপর উচ্চহারে কর বৃদ্ধির দাবিতে সাফ‘র আয়োজনে কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেলষ্টেশনে গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় জিআরপি থানার সামনে এক অবস্থান কর্মসূচী ও লিফলেট ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।

সাফ‘র নির্বাহী পরিচালক ও জেলা তামাক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য মীর আব্দুর রাজ্জাক এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন রেলওয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার মো: আবুল হাশেম খন্দকার, বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ডা: হারুন অর রশিদ। বক্তাগণ বলেন, পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি হতে রক্ষার জন্য জনস্বার্থে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন জানা এব মানা সবার দায়িত্ব। ১৮ বছরের নিচে কাহারও নিকট সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ। আমরা যদি এটা বাস্তবায়ন করতে পারতাম তাহলে যুব সমাজ আজ এইভাবে মাদকে আসক্ত হতো না। বাংলাদেশে ৪৩% মানুষ তামাকজাত দ্রব্য সেবন করে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৪ সালের তথ্যানুসারে পৃথিবীর যেসকল দেশের মধ্যে তামাক পণ্য সস্তা তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশে স্বল্পমূল্যে সাদাপাতা, জর্দা, গুল, বিড়ি ও সিগারেট সহজলভ্য ও সহজ প্রাপ্য হওয়ায় দরিদ্র মানুষের মধ্যে তামাক সেবনের হার ক্রমবর্ধমান। তামাক স্বাস্থ্যহানীকর বিলাসবহুল পন্য যা ধীরে ধীরে মানুষকে অকাল মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। তামাক নিয়ন্ত্রণে সর্বাধিক কার্যকর পদ্ধতি তামাকের মূল্য ও কর বৃদ্ধি। কাজেই এধরনের পন্য ব্যবহারে নিরুৎসাহিতকরণ এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে এর উপর উচ্চ হারে কর আরোপ জরুরী। অবস্থান কর্মসূচী শেষে স্টিকার, লিফলেট বিলি, তামাক বিরোধী পোষ্টার ও ফেসটুন প্রদর্শণ এবং মাইকে প্রচারণা চালানো হয়। যাত্রীসাধারণ ও পথচারী এই প্রচারণাকে স্বাগত জানায়।

প্রিন্স, ঢাকা