চিরন্দ্রিায় সমাহিত হলেন সাবেক সাংসদ ওয়াহিদুল

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: পঞ্চম বার জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ী জেলার হাটহাজারী লালিয়ারহাটস্থ পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় সমাহিত হলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ছৈয়দ মোঃ ওয়াহিদুল আলম। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৯০ সালে প্রথম হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর পর ১৯৯১ ইং থেকে ২০০৬ ইং পর্যন্ত একাদারে চট্টগ্রাম ৫ আসনের মহান জাতীয় সংসদ সদস্য ছিলেন। বিএনপির সাবেক এই সংসদ ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদের হুইপ ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর বি.এনপির আহব্বায়ক, কেন্দ্রীয় বিএনপির তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ছিলেন।

গত বছরের ২১ শে মার্চ থেকে বার্ধ্যক্য জনিত রোগের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়। সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ শে মে সন্ধ্যায় ৭: ৪৫ মিনিটে শেষ নিস্বাস ত্যাগ করেন ৭২ বছর বয়সী এই রাজনৈতিবিদ।

ছৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের ১ম নামাজের জানাজা ২৮ মে সোমবার সকাল ১১ টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। ২য় নামাজের জানাজা দুপুর ১২.৩০ মিনিটে বিএনপির নয়াপ্লটনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এবং তৃতীয় জানাজা একই দিন বাদে আছর চট্টগ্রাম জমিয়াতুল ফালা মসজিদ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। ৪র্থ নামাজের জানাজা ২৯ শে মে সকাল ১১ টায় নির্বাচনী এলাকার হাটহাজারী পার্বত্য বিদ্যালয়ের মাঠে ও উপজেলার লালিয়ারহাটস্থ বাদে আছরের পর পঞ্চম নামাজের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে চিরন্দ্রিদায় সমাহিত হয়।

হাটহাজারী পার্বতী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজায় উপস্থিত হন হাটহাজারীর আরেক কৃতি সন্তান, হাটহাজারী থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান, ছৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, বিএনপির চেয়ারপার্সেন এর উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, চেয়ারপার্সেন এর উপদেষ্টা এস.এম ফজলুল হক, কেন্দ্রীয় বিএপির সদস্য ব্যারিস্টার মীর মাহমুদ হেলাল।

জেলা বিএনপির নেতা ভিপি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন, হাটহাজারী থানা বিএনপির আহব্বায়ক নূর মোহাম্মদ, সদস্য সচিব সোলাইমান মঞ্জু, উপজেলা চেয়ারম্যান মাহাবুবুল আলম চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনির, উত্তর জেলা আওয়ামীলিগের যুগ্ম সম্মপাদক ইউনুছ গণি চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলিগ নেতা মঞ্জুরুল আলম সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবি, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের শোভাকাঙ্খি সহ হাজার হাজার মুসল্লির ঢল নামে। মৃত্যকালে তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যা, আত্মীয় স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।

প্রিন্স, ঢাকা