ময়মনসিংহ পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক:  তুচ্ছ ঘটনায় ত্রিশাল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে পরিবহন শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ ও ৪০টি বাস ভাংচুরের ঘটনায় দোষী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে উত্তরাঞ্চলীয় পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা আজ ৩০ মে থেকে অনিদ্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট আগামী ৭জুন পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে ।

উত্তরাঞ্চলীয় পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক এবং ঢাকা বিভাগীয় পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব আমিনুল হক শামীম জানান, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার জি.এম সালে উদ্দিন তাকে টেলিফোনে ঘটনার সম্মানজনক সমাধানের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ৩০ মে ডাকা অনিদ্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট আগামী ৭জুন পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে ।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার জি.এম সালে উদ্দিন জানান, ওই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে আগামী ৫ জুন মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে এক সমঝোতা সভা আহবান করা হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের সভাপতিত্বে সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ছাত্র-শিক্ষক প্রতিনিধি ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের অপর একটি সূত্র জানায়, ঘটনার সম্মানজনক সমাধান না হলে পূর্বের ডাকা অনিদ্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট কর্মসূচী পুনরায় শুরু হবে।

গত ১৩ মে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসকে অপর একটি ট্রাক ধাক্কা দেয়। এনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে পরিবহন শ্রমিক ও এলাকারবাসীর দয়ায় দয়ায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা শহরের বাইপাস এলাকায় ও ত্রিশালে কমপক্ষে ৪০টি বাস ভাংচুর ও শ্রমিকদের মারধর করে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যপক ভাংচুর চালায়। এমনকি কৃষকের ধান ক্ষেত, কাঁচাধান ও খর পুড়িয়ে ফেলে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে উশৃঙ্কল শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের মারধর ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়।

এতে উশৃঙ্খল শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করে। এঘটনায় কোতুয়ালী মডেল থানায় ও ত্রিশাল থানায় পৃথক ৩টি মামলাও দায়ের করা হয়। এরপর বাস ভাংচুর, শ্রমিক মারধর ও সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা ও ত্রিশাল থানায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অজ্ঞাত ৪/৫‘শ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করে জিলা মটর মালিক সমিতি, ত্রিশাল পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ও সাংবাদিকরা।

এছাড়া বাস ভাংচুর ও শ্রমিক মারধরের ঘটনায় দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে গত ১৫ মে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি দিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়া হলে বিক্ষুব্দ পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহবানে ৩০ মে থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের কোনো সড়ক-মহাসড়কে কোনো প্রকার যানবাহস চলাচল করবে না।

প্রিন্স, ঢাকা