বন্দুকযুদ্ধে নিহত আরও ৮

নিউজ ডেস্ক: সারাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এবং ‘নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে’ আরও ৮ জন নিহত হয়েছে। সোমবার রাতে এসব ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে ঢাকা, কুষ্টিয়া ও কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পাঁচজন এবং যশোর ও সাতক্ষীরায় ‘নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে’ তিনজন নিহত হয়েছে। সমকালের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

ঢাকা (দক্ষিণখান): রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার রাত সোয়া ১২টায় দিকে দক্ষিণখান থানা এলাকার আশিয়ান সিটি মাঠে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মাদক ব্যবসায়ীর নাম সুমন ওরফে খুকু সুমন। তার নামে দক্ষিণ খান থানায় ৫টি মাদকের মামলা রয়েছে। দক্ষিণখান থানা পুলিশ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কুষ্টিয়া ও দৌলতপুর প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের শেহালা মাঠে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ দুই মাদক ব্যবসায়ী মুকাদ্দেস আলী (৪২) ও ফজলুর রহমান ওরফে টাইটেল (৪৮) নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করেছে।

দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) আজগর আলী জানান, একদল মাদক ব্যবসায়ী দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের শেহালা মাঠে মাদক ক্রয় বিক্রয় করছে এমন গোপন সংবাদ পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশের টহল দল (মঙ্গলবার রাত) গতরাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুইজন মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুলিবিদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পুলিশের এসআই ফিরোজ আলম, এসআই আব্দুর রাজ্জাক ও কনষ্টেবল সজিত কুমার আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, ৫ রাউন্ড গুলি. একটি পিস্তুলের ম্যাগজিন ও ২৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। নিহত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের ৮টি করে মামলা রয়েছে।

যশোর অফিস: যশোরে দু’দল মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ‘গোলাগুলিতে’ নিহত হয়েছে দুইজন। সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া প্রাইমারি স্কুল এলাকায় ‘গোলাগুলির’ এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- যশোর সদরের মন্ডলগাতি গ্রামের জাহান আলীর ছেলে আসর আলী (৫৬) ও শহরের রায়পাড়ার সেখেঁন্দার খার ছেলে মানিক (২৬)।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সালাউদ্দিন শিকদার জানান, নিহত দু’জনই চিহিৃত মাদক কারবারি। এদের মধ্যে আসর আলীর বিরুদ্ধে ১১টি ও মানিকের নামে ১০টি মাদক আইনে মামলা রয়েছে।

যশোর কোতয়ালী থানার ওসি একেএম আজমল হুদা জানান, সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে চাঁচড়া রায়পাড়া প্রাইমারি স্কুল এলাকায় দু’দল মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে বলে খবর পান। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ সেখানে গেলে পুলিশের উপস্থিতি পেয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এসময় সেখানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দু’জনকে পরে থাকতে দেখে তাদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ওসি আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে ৬শ’ পিস ইয়াবা, দুইটি দেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড তাজা গুলি ও ১২ বোর বন্দুকের ৪টি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা: কুমিল্লায় মাদক বিরোধী অভিযান চলাকালে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‌‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিব্ধ হয়ে লিটন ওরফে কানা লিটন (৪৩) এবং বাতেন (৩৪) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জেলার মুরাদনগর উপজেলার গুঞ্জর এলাকায় গোমতী প্রতিরক্ষা বাধের পাশে ভাই ভাই ব্রিক ফিল্ডের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে পুলিশের ৩ কর্মকর্তা। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি পাইপগান ও ৪০০ বোতল ফেনসিডিল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মঞ্জুর আলম।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আনিসুর রহমান নামে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, আনিসুর রহমান মাদক ব্যবসায়ী। কলারোয়ার ইয়াবা সম্রাট নামে পরিচিত ওই ব্যক্তি নিজেদের মধ্যে মাদকের ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষে মারা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ জানান, সোমবার রাত সোয়া ২টায় তার কাছে খবর আসে যে দেয়াড়া ইউনিয়নের পিলাপোলের মাঠে মাদক চোরাচালানিদের দুটি গ্রুপ মাদক ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি করছে। এ খবর পেয়ে খোরদো পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম একদল পুলিশ সদস্য নিয়ে সেখানে যান। এ সময় পুলিশ তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। গোলাগুলি থামার পর সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। তার নাম আনিসুর রহমান (৪০)। তার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা থানায় ১০টি মামলা রয়েছে।

এদিকে নিহতের স্ত্রী নাজমা বেগম জানান, তার স্বামীকে সোমবার সকালে বাড়ি থেকে সাদা পোশাকধারীরা তুলে আনার পর তিনি কলারোয়া থানা ও খোরদো পুলিশ ক্যাম্পে খোঁজ নিলে জানানো হয় পুলিশ তাকে আটক করেনি। তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রথমে কলারোয়ায় ও পরে সাতক্ষীরায় একটি সংবাদ সম্মেলন করার চেষ্টা করেন। রাতে কলারোয়া থানায় একটি জিডি করতে গেলে পুলিশ তাও নেয়নি । বলেছে একটু দেরি করতে। তবে ওসি বলেন, তিনি এ সম্পর্কে কিছু জানেন না।