পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র যন্ত্রাংশ শিপমেন্টে জরিমানা গুণছে বিসিপিসিএল

নিউজ ডেস্ক: পায়রায় ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে অর্থায়ন করছে চীনের এক্সিম ব্যাংক। এই টাকা ছাড়ের অনুমোদন দিতে দেরি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে কেন্দ্র নির্মাণের গতিও কমে যাচ্ছে। যন্ত্রাংশ শিপমেন্টের ক্ষেত্রেও জরিমানা গুণছে বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল)।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণে গত ৩ মে এক্সিম ব্যাংক ৪৩০ মিলিয়ন ডলারের প্রথম কিস্তি ছাড় দেয়। নিয়ম অনুযায়ী, এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর কোনও দায়িত্ব না থাকলেও তাদের অনুমোদন ছাড়া বৈদেশিক ঋণের অর্থ ছাড় করা যায় না। ফলে এই অর্থ ছাড়ের জন্য বাংলাদেশে ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। প্রায় একমাস হয়ে গেলেও এ পর্যন্ত পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অর্থ ছাড়ের অনুমোদন দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিদ্যুৎ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তার অভিযোগ— কোনও কারণ ছাড়াই তারা (বাংলাদেশ ব্যাংক) সময় ব্যয় করছে। তিনি জানান, যে কর্মকর্তার কাছে অর্থ ছাড়ের কাজ তিনি হয়তো দেখা গেছে, ফাইল আটকে রেখেই প্রশিক্ষণে চলে গেছেন। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পে এভাবে দেরি করাটা যৌক্তিক না হলেও করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জিএম (নীতি) খোরশেদ ওহাব বলেন, ‘আমরা অর্থ ছাড় করি না। অনুমোদন দেই।’ এই অনুমোদন প্রক্রিয়াতে দেরি হতেই পারে। কেন দেরি হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি অফিসের বাইরে, না দেখে বলতে পারবো না।’

চীনের এক্সিম ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি ঢাকা সফরে আসে। এখনও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অর্থ ছাড় হয়নি শুনে তারা বিস্ময় প্রকাশ করেছে। প্রতিনিধি দল উল্টো প্রশ্ন তুলেছে— তাদের দেওয়া ঋণের অর্থ ছাড় করতে এত বেশি সময় নিলে ঋণ পরিশোধের সময় কী করবে বাংলাদেশ।

এক্সিম ব্যাংক পায়রার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে ১৯৮ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেবে।এই ঋণের অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমেই দেশে আসবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৭টি হিসাব (অ্যাকাউন্ট) খোলা হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি হিসাব হলো ইউএসডি অ্যাকাউন্ট (ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্ট)।

বিসিপিসিএল সূত্র জানায়, এরইমধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ৩৮ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। আগামী জুলাই থেকে কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও এখন অর্থের অভাবে কাজের গতি কমে গেছে। আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট উৎপাদনে আসবে ২০১৯ সালের জুন মাসে। দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনে আসবে একই বছরের ডিসেম্বরে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রটি উৎপাদনে আসার কথা। কিন্তু অর্থ ছাড়ের অনুমোদন দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেরির কারণে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে কিনা, তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেন্দ্রটি নির্মাণে ১৫ ভাগ অর্থ ঠিকাদার নিজেই আগে থেকে ব্যয় করেছে। এছাড়া, চীনের কোম্পানি সিএমসি বেশ বড় রকমের বিনিয়োগ করেছে। অর্থ ছাড়ের আগেই কেন্দ্রটির ৪০ ভাগ নির্মাণ কাজসহ যন্ত্রাংশ তৈরি করেছে সিএমসি। এখন টাকা পরিশোধ না করলে জাহাজিকরণ করা যাচ্ছে না। প্রতিদিন জাহাজিকরণের বিলম্বের জন্য সিএমসি’কে জরিমানা গুণতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সমান অংশীদারিত্ব দেশীয় কোম্পানি নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল) এবং চীনা কোম্পানি চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি)। কেন্দ্রটি নির্মাণে ২০ ভাগ অর্থ রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বিনিয়োগ করছে। বাকি ৮০ ভাগ ঋণ দিচ্ছে চায়না এক্সিম ব্যাংক।

সূত্র: বাংলা  ট্রিবিউন