ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডিসহ তিনজনকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

নিউজ ডেস্ক: ইউরোপা গ্রুপের স্বত্বাধিকারী সেলিম চৌধুরীর মালিকানাধীন বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঋণের নামে শত কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ অনুসন্ধানে ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (ডিএমডি) তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক মো. সামছুল আলমের নেতৃ্ত্বাধীন একটি টিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। টিমের অপর সদস্য হলেন- দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান।

যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তারা হলেন- ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী, ডিএমডি আবু জাফর হেদায়তুল ইসলাম এবং ইভিপি অ্যান্ড সিআরএম সৈয়দ মনছুর মোস্তফা।

এর আগে গত ২৮ মে একই অভিযোগ অনুসন্ধানে ইউরোপা গ্রুপের স্বত্বাধিকারী সেলিম চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। ইতিমধ্যে ইউরোপা গ্রুপ ও ট্রাস্ট ব্যাংকের আরো বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।

এদিকে ইউরোপা গ্রুপের বিরুদ্ধে ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ৪৪ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এর মধ্যে ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে ইউরোপা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমআর গ্লোবাল লিমিটেডের নামে ১০ কোটি টাকা জালিয়াতির প্রমাণ ও ইউরোপা ফুড অ্যান্ড বেভারেজের নামে ৩৪ কোটি টাকা ওডি হিসাব থেকে বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এখন অভিযোগ প্রমাণে নথিপত্র সংগ্রহের কাজ চলছে বলে দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র জানায়। চলছে অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানের কাজ।

২০১৭ সালের ২৫ জুলাই মাসে ইউরোপা গ্রুপের স্বত্বাধিকারী সেলিম চৌধুরীর মালিকানাধীন বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড এবং রূপালী ব্যাংকের তিনটি শাখা থেকে ঋণের নামে শত কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরেই অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করতে থাকে দুদকের অনুসন্ধান দল।

অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্রে আরো জানা যায়, ইউরোপা গ্রুপের স্বত্বাধিকারী সেলিম চৌধুরীর মালিকানাধীন বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের পুরানা পল্টন শাখার প্রাক্তন শাখা ব্যবস্থাপকের সহায়তায় ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড ও ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের তেজগাঁও শিল্প এলাকা শাখা এবং রূপালী ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ঋণের নামে শত শত কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে।