মাদকবিরোধী অভিযানে ষড়যন্ত্র আছে: ফকরুল

নিউজ ডেস্ক: চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধের নামে চালানো হত্যাকাণ্ডের পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক প্রতিবাদ সভায় এই অভিযোগ করেন তিনি। ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক ফোরামের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর মুক্তির দাবিতে এই প্রতিবাদ সভা করা হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধের নামে প্রতিদিন মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। আমাদের প্রশ্ন, হত্যা না করে তাদের বিচার করা হচ্ছে না কেন? আজকে বাংলাদেশে একটা নতুন পরিবেশ সৃষ্টির জন্য, অন্য কোনো কিছু আগাম সৃষ্টির পায়তারা করার জন্য এটা করা হচ্ছে কিনা। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এটাকে যদি শুধু মাদকবিরোধী অভিযান মনে করি তাহলে ভুল হবে। এর পেছনে ষড়যন্ত্র আছে, নিশ্চয় আরো একটা ভিন্ন ধরনের চক্রান্ত রয়েছে।

শনিবারের মাদকবিরোধী অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হক নিহত হন।

ওই প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, সেই এলাকার মানুষ বলেছে, পৌর কাউন্সিলর একজন নিরীহ ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি তিনবার কমিশনার নির্বাচিত হয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ তার জানাজায় অংশ নিয়েছেন। সবাই বলছে নিরপরাধ একজনকে হত্যা করা হয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দেবেন। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কাদের ইঙ্গিতে এই হত্যা করা হয়েছে। কারা এই তালিকা তৈরি করেছে? আপনার ঘরে যারা মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত, তাদের গায়ে আপনি ফুলের টোকাও দিচ্ছেন না।

ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক ফোরামের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিনের সভাপতিত্বে ও গাজী রেজওয়ান-উন হোসেন রিয়াদের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মসিউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, গোলাম সারোয়ার, ইয়াসীন আলী ও সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রমুখ।

দেশজুড়ে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে সোমবার পর্যন্ত গত নয় দিনে অন্তত ৯০ জন নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের সবাই মাদক কেনা-বেচায় জড়িত বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে তাদের বক্তব্য ও ঘটনার বিবরণ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুরুতে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ কথা জানালেও এখন গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারে কথা বলছে তারা। এসব সমালোচনার মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, তারা মাদকের বিরুদ্ধে ‘অলআউট’ যুদ্ধে নেমেছেন।