বিএনপির প্রশ্ন তিস্তার পানি নিয়ে

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভারত সফরে তিস্তার পানি বন্টনসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানে কী করেছেন জানতে চেয়েছে বিএনপি।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ইমান্যুয়েলস কনভেশন সেন্টারে এক ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই বিষয়ে জানতে চান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজনীতিবিদদের সন্মানে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) এর আয়োজন করে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তি নিকেতনে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণ করেছে-অত্যন্ত ভালো কথা। সেই সঙ্গে আমাদের প্রশ্ন, জনগণের প্রশ্ন আমাদের যে পাওনাগুলো রয়েছে, সমস্যাগুলো রয়েছে সেই সমস্যাগুলো সম্পর্কে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কথা বলছেন কি না।’

‘আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছিলো তখনই তারা বলেছিলো যে, এখন এটা শুধু সময়ের ব্যাপার যে আমরা তিস্তা নদী পানি বন্টন চুক্তি করতে পারব। অথচ দীর্ঘ ৯ বছর হয়ে গেলো এখন পর্যন্ত তিস্তা নদীর এক ফোঁটা পানির ব্যাপারেও কোনো চুক্তি হয়নি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শুধু তিস্তা নয়, অভিন্ন যে ১৫৮টি নদী রয়েছে সেই নদীগুলোর হিস্যার ব্যাপারে কোনো চুক্তি হয়নি। অথচ দেখা যাচ্ছে যে, সামরিক চুক্তি হচ্ছে। সীমান্তে যে মানুষদের হত্যা করা হয় সেটাকে বাদ দিয়ে ট্রানজিট হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন বন্দর নির্মিত হচ্ছে।’

‘আমরা অবশ্যই কানেকটিভিটির পক্ষে, আমরা অবশ্যই একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের সংযোগ স্থাপন হবে তার পক্ষে। একই সঙ্গে তার বিনিময় আমরা কী পাচ্ছি সেটাও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। আমরা বার বার বলছি, এভাবে জনগণকে বোকা বানিয়ে, জনগণের সাথে প্রতারণা করে আপনারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাচ্ছেন।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সাংসদদের প্রচারণায় অংশ নেবার জন্য নির্বাচন কমিশন যে সংশোধন এনেছে তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের দাবির কাছে নতি স্বীকার করে তারা সংসদ সদস্যদেরকে নির্বাচনের প্রচারণায় নামার জন্য অনুমোদন দিয়ে কাজ করছে।’

‘আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এই বিধি ইসির এই পদক্ষেপ নিসন্দেহে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে স্থানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে, সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে যদি সংসদ সদস্যদেরকে প্রচারণায় নামতে দেওয়া হয় তাহলে সেখানে কিছুতেই লেভেল প্ল্যায়িং ফিল্ড তৈরি হবে না।’

মাদকবিরোধী অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে সরকার বিভিন্ন অভিযানের নামে এদেশের নিরহ মানুষদের হত্যা করছে। আজকে আবার নতুন যে অভিযান শুরু করেছেন হঠাৎ করেই রোজার মাসে নির্বাচনের বছরে আপনারা মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেছেন। আগে নিজের ঘরটা পরিষ্কার করুন। আপনার ঘরের মধ্যে কত জন আছেন যারা মাদকের ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত তাদেরকে আগে নিয়ে আসুন।’

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরীর সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার।

২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর মিয়া গোলাম পারোয়ার, আবদুল হালিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা এম এ রকীব, বিজেপির আবদুল মতিন সাউদ, খেলাফত মজলিশের মাওলানা শেখ গোলাম আজগর, জাগপা‘র খন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান, এনপিপি‘র ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, মো. ফরিদউদ্দিন, কল্যাণ পার্টির এমএম আমিনুর রহমান, লেবার পার্টির দুই অংশের হামদুল্লাহ আল মেহেদি, মাহমুদ খান, ন্যাপের মোস্তফা ভুঁইয়া, মো. শহীদন্নবী ডাবলু, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ডিএলের সাইফুদ্দিন মনি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম প্রমূখ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বিএনপি মহাসচিব ইফতার করেন।