বঙ্গবন্ধু শান্তি পদক উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘জুলিও কুরি শান্তি পদক’ প্রাপ্তির ৪৪ বছর পূর্তি উদ্যাপন এবং ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পদক’ প্রদান উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন: “সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জুুলিও কুরি শান্তি পদক প্রাপ্তির ৪৪ বছর পূর্তি উদ্যাপন উপলক্ষে জুলিও কুরি বঙ্গবন্ধু শান্তি সংসদ ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পদক’ প্রদান করছে জেনে আমি আনন্দিত।

জাতির পিতা ছিলেন বিশ্বের মুক্তিকামী, নিপীড়িত, মেহনতি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা। শান্তি, সাম্য, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। জেল-জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করেছেন। তাঁর অতুলনীয় সাংগঠনিক দক্ষতা, রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রজ্ঞা, মানবিক মূল্যবোধ, ঐন্দ্রজালিক ব্যক্তিত্ব বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করে। তাঁর নির্দেশে বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়। তিনি গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদকে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করেন। বিশ্ব রাজনীতিতে তিনি একটি নতুন দর্শন প্রতিষ্ঠা করেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংঘাতময় পরিস্থিতি উত্তরণে তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠন করেন। বিশ্বশান্তি পরিষদের শান্তি পদক কমিটি জাতির পিতার কর্মের স্বীকৃতিপত্রে এ বিষয়গুলো উল্লেখ করে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৩ সনের ২৩ মে তাঁকে ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদকে ভ‚ষিত করে। এটি ছিল বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বাংলাদেশের জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মান প্রাপ্তি।

বঙ্গবন্ধু ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বৈরিতা নয়’ এবং ‘সকল বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান’কে পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সব সময় জাতির পিতার নীতি ও আদর্শকে অনুসরণ করেছে। আমরা শান্তির জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকে করণীয় হিসেবে গ্রহণ করেছি, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তিতে আমাদের সাহায্য করেছে।

আমি আশা করি, ‘জুলিও কুরি বঙ্গবন্ধু শান্তি সংসদ’ এর উদ্যোগ বঙ্গবন্ধুর ‘জুলিও কুরি শান্তি পদক’ অর্জনের জাতীয় ইতিহাসকে সংরক্ষণ ও গণমানুষের কাছে তুলে ধরতে সহায়ক ভ‚মিকা পালন করবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী সমৃদ্ধ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।

আমি জুলিও কুরি বঙ্গবন্ধু শান্তি সংসদ আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘জুুলিও কুরি শান্তি পদক’ প্রাপ্তির ৪৪ বছর পূর্তি উদ্যাপন এবং ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

 

প্রিন্স, ঢাকা নিউজ২৪