‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৮ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

নিউজ ডেস্ক: দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদক বিরোধী অভিযানের মধ্যে পাঁচ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আটজন নিহত হয়েছেন।

বুধবার দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত ফেনী, মাগুরা, আখাউড়ায়, নারায়ণগঞ্জে ও কুমিল্লায় নিহত সবাই মাদক ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কুমিল্লার নিজস্ব প্রতিবেদক, মাগুরা প্রতিনিধি, ছাগলনাইয়া (ফেনী) প্রতিনিধি, আখাউড়া (ব্রাক্ষণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ও নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধির পাঠানো খবর:

কুমিল্লা: কুমিল্লায় পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বাবুল ওরফে লম্বা বাবুল (৩৫) এবং রাজিব (২৬) নামের দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন আমানগন্ডা সলাকান্দা নতুন রাস্তার মাথায় এবং রাত সোয়া ২টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা সংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাাম পুুরাতন ট্যাংক রোডের গোয়ালমথন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

চৌদ্দগ্রামে নিহত বাবুল উপজেলার বৈদ্দেরখিল গ্রামের হাফেজ আহাম্মদের ছেলে এবং রাজিব সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি সংলগ্ন চাঙ্গিনী গ্রামের মৃত শাহ আলমের ছেলে।

দুইজনই তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী বলে পুলিশ দাবি করেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র ও মাদক।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল ফয়সাল জানান, মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পৌর এলাকার রামরা থেকে তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী বাবুুলকে আটকের পর তাকে নিয়ে আমানগন্ডার নতুন রাস্তার মাথার মন্তাজের বাগানে রাত ১টার দিকে অভিযানকালে বাবুলের সহযোগিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

তিনি জানান, এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষায় পাল্টা ২৩ রাউন্ড গুলি চালায়। উভয় পক্ষের গুলিবিনিময়ে মাদক ব্যবসায়ী বাবুল ছাড়াও থানার এসআই মোজাহের, কনস্টেবল মিজান ও ফরিদ আহত হন। আহত বাবুলকে আশংকাজনক অবস্থায় কুমেক হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি এবং ২০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, নিহত বাবুরেলর বিরুদ্ধে মাদক আইনে ৫টি মামলা রয়েছে।

অপর দিকে, সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, গোপনে খবর পেয়ে রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন ট্যাংক রোডের গোয়ালমথন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা একটি প্রাইভেটকারে মাদকদ্রব্য নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

তিনি আরও জানান, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ী রাজিব (২৫) ও তার সহযোগিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় আত্মরক্ষায় পুলিশও ১৭ রাউন্ড গুলি চালায়। এতে গুলিবিব্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন মাদক ব্যবসায়ী রাজিব। এছাড়াও থানার ওসি নজরুল ইসলাম, থানার এসআই শামসুদ্দিন ও এসআই অঞ্জন কুমার নাহা আহত হন। আহত রাজিবকে কুমেক হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি জানান, নিহত রাজিবের বিরুদ্ধে থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কার্তুজসহ একটি এলজি, ৫০ বোতল ফেনসিডিল এবং ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত উভয়ের মরদেহ কুমেক হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মাগুরা: মাগুরা শহরতলীর পারনান্দুয়ারী হাউজিং প্রজেক্ট এলাকা থেকে আইয়ুব শেখ ও মিজানুর রহমান কালু নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত আইয়ুব শহরতলীর নীজনান্দুয়ালী এলাকার মৃত জব্বার শেখ ও কালু শহরের ভায়না টিটিডিসি পাড়া এলাকার আব্দুল বারীর পুত্র।

মাগুরার সহকারী পুলিশ সুপার (সদর) সার্কেল ছয়েরউদ্দিন জানান, বুধবার রাত দেড়টার দিকে শহরতলীর পারনান্দুয়ালী সরকারি হাউজিং প্রজেক্ট এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় দুই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে। উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৫০ গ্রাম হেরোইন, তিনটি রাইফেলের গুলি ও ছয়টি বন্দুকের গুলির খোসা উদ্ধার করেছে।

ছয়েরউদ্দিন জানান, মাদক ব্যবসা নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দুইপক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে আইয়ুব শেখ ও মিজানুর রহমান কালু নিহত হয়েছে। আইয়ুব শেখের নামে হত্যা ও মাদক অইনে ২১ টি এবং কালুর বিরুদ্ধে ১৮ টি মামলা রয়েছে।

মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ পরীক্ষিত পাল জানান, হাসপাতালে আনার আগেই দুই ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে।

আখাউড়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় বনগজ-ভড়খা সড়কের কুরেরপাড়ার নামক স্থানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।
বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকের এ ঘটনায় নিহত আমির খাঁর (৪০) বাড়ি উপজেলার তানপুর গ্রামে। তার বাবার নাম সুরুজ খাঁ।

আখাউড়া থানার ডিউটি অফিসার এএসআই শাহিনুল ইসলাম সমকালকে জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা ওই এলাকা জড়ো হয়েছে খবর পেয়ে অভিযানে যায় পুলিশ। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে।

তিনি জানান, এক পর্যায়ে সহযোগীদের গুলিতে নিহত হয় আমির। পুলিশের তিন সদস্যও আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপ গান ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত আমিরের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে বলেও জানান শাহিনুল ইসলাম।

ফেনী: ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার জাম্মুড়া রাস্তার মাথায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশী কাটা বন্দুক, তিনটি কার্তুজ, ৭শ পিস ইয়াবা ও ২শ পিস ফেন্সিডিল উদ্ধার করেছে।

নিহতদের মধ্যে একজন ফুলগাজীর আনন্দপুর ইউয়িনের মাইজ গ্রামের মোহাম্মদ মোস্তফার ছেলে সাহমিরান সামির (৩০) অপরজন সদর ইউনিয়নের মনতলা গ্রামের মৃত ফটিক মিয়ার ছেলে মজনু মিয়া ওরফে মনির (৩২)।

পুলিশ জানায়, তাদের প্রত্যেকের বিরূদ্ধে ফুলগাজী থানায় ১০টির বেশি অস্ত্র ও মাদকের মামলা রয়েছে।

ফুলগাজী থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বন্ধুকযুদ্ধে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।

নায়ায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ নিমাই কাঁসারী এলাকার এ ঘটনায় নিহতের নাম ফেন্সি সেলিম (৩০)।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলামের এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সংঘবদ্ধ একটি দল পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে সেলিম মারা যায়। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনায় তিনিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানান নজরুল।