রাখাইনে ৯৯ হিন্দুকে হত্যা করেছে আরসা: অ্যামনেস্টি

নিউজ ডেস্ক: গত বছরের আগস্টে রাখাইনে শিশুসহ প্রায় ১০০ হিন্দু নাগরিককে হত্যা করেছে রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। সম্প্রতি মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে আরসা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

অ্যামনেস্টির বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রথমদিকেই রাখাইনের হিন্দুদের হত্যা করা শুরু করে আরসা। এক বা একাধিক ঘটনায় ৯৯ হিন্দুকে হত্যা করেছে তারা। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর নৃশংস নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। পূর্বে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি।

অ্যামনেস্টি জানায়, তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ও রাখাইনে থাকা রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে করা তদন্তে আরসার হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পেয়েছে। শরণার্থীদের ভাষ্যমতে, গত বছরের আগস্টে পুলিশ পোস্টে হামলা চালানোর সময় রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে মংডু শহরে হিন্দুদের হত্যা করেছে আরসা। এছাড়া অন্যান্য এলাকায়ও সহিংসতা চালিয়েছে তারা।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন অনুসারে, আরসা সদস্যরা গত বছরের ২৬শে আগস্ট রাখাইনের হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রাম আহ নক খা মং সেইক’এ হামলা চালায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নির্মম, কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডে, আরসা সদস্যরা কয়েক ডজন হিন্দু নারী, পুরুষ ও শিশুকে আটক করে তাদের উপর নির্যাতন চালায় ও পরবর্তীতে নিজ গ্রামে তাদের হত্যা করে।

ওই হত্যাকাণ্ডে বেঁচে যাওয়া হিন্দুরা অ্যামনেস্টিকে বলেছে, তারা তাদের আত্মীয়-স্বজনকে খুন হতে দেখেছে বা তাদের চিৎকার শুনেছে। আহ নক খা মং সেইক গ্রামের এক নারী বলেন, তারা পুরুষদের হত্যা করেছে। তাদের কাছে ছুরি ছিল। কারো কারো কাছে কোদাল ও বড় বড় রড ছিল। আমরা ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে অল্প একটু দেখতে পেয়েছিলাম। তারা আমার বাবা, চাচা, ভাই সবাইকে হত্যা করেছে।

আরসা সদস্যদের বিরুদ্ধে ২০ পুরুষ, ১০ নারী, ২৩ শিশুকে হত্যার অভিযোগ এনেছে অ্যামনেস্টি। হত্যা করা শিশুদের মধ্যে ১৪ জনের বয়স ৮ বছরের কম ছিল। অপর ৪৬ হিন্দু নারী, পুরুষ ও শিশু গুম হয়েছিল পাশের ইয়ে বাউক কিয়ার গ্রাম থেকে। আরসা যোদ্ধারা তাদেরও হত্যা করেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।