অর্পিত সম্পত্তি ফেরত পাচ্ছে না দাবিদাররা

সুমন দত্ত

বাংলাদেশের হিন্দুরা অর্পিত সম্পত্তি ফেরত পাচ্ছে না। মামলা করে সম্পত্তি ফেরত পাবার রায় পাওয়ার পরও সরকার প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে ভুক্ত ভুগিরা নিজেদের প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না। ২০ এপ্রিল রবিবার ঢাকা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এমন অভিযোগ করেছে বাংলাদেশের কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন।

এসব সংগঠনের পক্ষ বক্তব্যে রাখেন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল ও অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরি।

সুলতানা কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। আইন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের চিঠি চালাচালির মাধ্যমে এই আইন অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।

অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরি বলেন, এই আইন করা হয়েছিল দেশটির বৃহত্তর সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর স্বার্থে। কিন্তু এই সম্পত্তি কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কাছে থাকায় সম্পত্তি ফেরত পাচ্ছে না সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। আমাদের কাছে মাঠ পর্যায় থেকে বহু অভিযোগ এসেছে। রায় পাবার পর সম্পত্তি ফেরত দিতে গড়ি মসি করছে জেলা প্রশাসন। উচ্চ আদালতে রিট হবে এই অজুহাতে তারা সম্পত্তি ফেরত দিচ্ছে না। অথচ সর্বোচ্চ আদালত থেকে বলা হয়েছে ট্রাইব্যুনালে মামলা নিষ্পত্তি হলে এই সংক্রান্ত কোনো রিট গ্রহণ করা হবে না। তারপরও তারা এই আইন বাস্তবায়ন করছেন না। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ একটি রিট (৮৯৩২/২০১১) আবেদনের নিষ্পত্তি শেষে ৫টি পর্যবেক্ষণসহ ৯দফা নির্দেশনা দিয়েছে। ৯০ পৃষ্ঠার ওই রায়ে ১ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়।

সেখানে বলা হয়, ১৯৭৪ সালের ২৩ মার্চের পর কোনো সম্পত্তি শত্রু বা অর্পিত ঘোষণা করা যাবে না। যদি কেউ করে তবে তা হবে বেআইনি। আর এই বেআইনি কাজের জন্য সরকারি কর্মচারীরা দায়বদ্ধ হতে পারেন। একই নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট একাধিক রায়ে বলেছেন। তারপরও দেখা যায় ভূমি প্রশাসনের এক শ্রেণির সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি, স্বার্থান্বেষী ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ওই তারিখের পর নতুন নতুন সম্পত্তি অর্পিত করে গেছেন। তারা বাদ পড়া অর্পিত সম্পত্তির নামে এসব সম্পত্তিকে অর্পিত করেন। এসব দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মচারীদের উচ্চ আদালতের রায় অনুসারে বিচারের দাবি করেন তারা।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে ২ লাখের মত অর্পিত সম্পত্তি মামলা অনিষ্পত্তি অবস্থায় আছে। এসব মামলা বিচার করার জন্য এক্সক্লুসিভ ট্রাইব্যুনাল করতে হবে সরকারকে। নারী শিশু নির্যাতনের মত আলাদা ট্রাইব্যুনাল করতে হবে। বর্তমানে অনন্যা মামলার সঙ্গে অর্পিত সম্পত্তি মামলার বিচার হয়। এতে বিচারকরা অন্যসব মামলা সেরে এই মামলাগুলো নিয়ে নাড়া চাড়া করেন। তাই এমন একটি ট্রাইব্যুনাল করা হোক, যাতে সেখানে শুধু অর্পিত সম্পত্তির মামলা গুলোই শুনানি করা হয়। এতে মামলা জট কমবে।

এছাড়া বিচার করতে হবে সেইসব ভূমি তহসিলদারদের যারা বেআইনি ভাবে বহু হিন্দুর সম্পত্তি ওয়ারিশ থাকা সত্ত্বেও অর্পিত করে গেছেন।

নিম্ন লিখিত সংগঠনগুলো যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

অর্পিত সম্পত্তি আইন প্রতিরোধ আন্দোলন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ, এএলআরডি, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, নিজেরা করি, ব্লাস্ট, এইচডিআরসি, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ

ঢাকা নিউজ২৪ডট কম