রাস্তা বন্ধ করে স্কুলের দেয়াল নির্মাণের প্রতিবাদে অবরোধ

গৌরীপুর সংবাদদাতা: ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সোমবার (১৪মে) রাস্তা বন্ধ করে একটি স্কুলের দেয়াল নির্মাণের প্রতিবাদে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে পাঁচ গ্রামের দুই শতাধিক নারী-পুরুষ। এসময় মহাসড়কের দুপাশে কয়েক শ যানবাহন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল হক সরকার রাস্তা নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।

স্থানীয় ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে কলতাপাড়া বাজারে ১৮৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কলতাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্বাধীনতার পর থেকে উপজেলার, চূড়ালি, নন্দীগ্রাম, মুলাকান্দি সহ কয়েক গ্রামের বাসিন্দা স্কুলের পূর্বপাশের কাঁচা রাস্তা দিয়ে কলতাপাড়া বাজার হয়ে উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করতো। ২০০৫ সালে স্কুলের পূর্বপাশে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও আশেপাশে বাড়িঘর গড়ে উঠার কারণে গ্রামবাসীর চলাচলের রাস্তাটা এক প্রকার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গ্রামের বাসিন্দারা স্কুল মাঠের ভেতর দিয়ে চলাচল শুরু করে।

২০১৫ সালে তৎকালীন এমপি ডাঃ ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকিরের ভাতিজা এসএমসির সভাপতি শাহ রফিকুল ইসলাম দিপু স্কুলের সামনের জায়গায় মার্কেট ও গেইট নির্মাণ করেন। এরপর থেকে স্কুল মাঠ হয়ে চলাচলের জন্য গ্রামবাসীকে নিষেধাজ্ঞা দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে গ্রামবাসী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্কুলের ভেতর দিয়ে যাতায়াত চলাচল অব্যাহত রাখে। এমনকি বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা চলাকালীন সময়েও স্কুলের ভেতর দিয়ে অবাধে চলাচল করতো গ্রামবাসী।

চলতি মাসে স্কুলে সরকারিভাবে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হলে গ্রামবাসীর চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে তারা। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকালে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয় গ্রামবাসী। এরপর রাস্তার দাবিতে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ বিক্ষোভ শুরু করলে সড়কের দুপাশে শতশত যানবাহন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল হক সরকার ঘটনাস্থলে এসে গ্রামবাসীকে শান্ত করে।

গ্রামের কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, জন্মের পর থেকে আমরা এই ইসকুলের রাস্তা দিয়া চলাচল করতাছি। মার্কেট নির্মাণ করার সময় আওয়ামী লীগ নেতা দিপু স্কুলের পূর্বদিকের রাস্তাটা বন্ধ করে দিছে। এখন স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ হলে পাঁচ গ্রামের শত শত মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

রফিকুল ইসলাম দিপু বলেন, মার্কেট নির্মাণের সময় স্কুলের পূর্বপাশের রাস্তা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকারি গাছ থাকার কারণে তা সম্ভব হয়নি। একটি ফলের দোকানের কারণে ওই রাস্তাটা বন্ধ আছে। গ্রামবাসী চাইলেই ওই ফলের দোকান সড়িয়ে দেয়া হবে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুর্শেদা খাতুন বলেন, রাস্তার জন্য গ্রামবাসী সীমানা প্রাচীরের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু গ্রামের আসল রাস্তাটা স্কুলের পূর্বপাশে ভবনের পেছন দিয়ে। বিষয়টি সমাধানে জন্য আগামী বুধবার গ্রামবাসীকে নিয়ে বসা হবে।
ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল হক সরকার বলেন, স্কুলের সীমানা প্রাচীরের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে গ্রামবাসীর চলাচলের জন্য রাস্তা বের করা হবে।