প্রতিবন্ধিতা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ২য় আন্তর্জাতিক সন্মেলন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির বাণী

স্টাফ রিপোর্টার: রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ প্রতিবন্ধিতা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ২য় আন্তর্জাতিক সন্মেলন উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন: “দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রতিবন্ধিতা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ২য় আন্তর্জাতিক সন্মেলনের আয়োজনকে আমি স্বাগত জানাই। আমি সম্মেলনে আগত দেশি ও বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের প্রতি জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।

দু্র্যোগপ্রবণ বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের সক্ষমতা বৃদ্ধি অনস্বীকার্য। দুর্যোগে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী বেশি ঝুঁকিপূর্ণ থাকে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা তাদের অধিকারকে খর্ব করে। প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলায় বদান্যতা বা

উদারতাভিত্তিক অবস্থান থেকে অধিকারভিত্তিক সমন্বিত উন্নয়ন প্রচেষ্টায় অন্তর্ভুক্তিকরণের বিষয়টি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ২০০৬ সালে প্রতিবন্ধীদের অধিকার সংক্রান্ত সন্মেলনের মাধ্যমে সূচিত হয়। গবেষকদের মতে ক্ষেত্রবিশেষে দুর্যোগ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর মৃত্যুহার সক্ষম জনগোষ্ঠীর তুলনায় ২ থেকে ৪ গুণ বেশি। সেক্ষেত্রে ‘SDG এজেন্ডা ২০৩০’এবং ‘সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক অভ্‌ ডিজাষ্টার রিস্ক রিডাকশন’ বাস্তবায়ন বিশেষ তাৎপর্যবহ।

প্রতিবন্ধিতা ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ১ম আন্তর্জাতিক সন্মেলন ২০১৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। সন্মেলনে গৃহীত “ঢাকা ঘোষণা” আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সন্মেলনের আয়োজন করে। আমি মনে করি ২য় সন্মেলনে “ঢাকা ঘোষণার” প্রায়োগিক দিক অর্থাৎ ‘সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক অভ্‌ একশনের’ প্রতিবন্ধিতা সমন্বিত দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বাস্তব রূপায়ণ নিয়ে আলোচনা হবে।

আমি মনে করি নীতিনির্ধারক, উন্নয়নকর্মী, বিশেষজ্ঞ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সকল অংশীদারিদের এই মিলনমেলার মাধ্যমে প্রতিবন্ধিতা সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বর্তমান অর্জন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ‘ঢাকা ঘোষণা’র অগ্রগতিসহ নানা বিষয় আলোচিত হবে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে প্রতিবন্ধিতা ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ২য় আন্তর্জাতিক সন্মেলন সফল হোক-এ কামনা করি।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”