কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন দাবিতে সড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কোটা বাতিল-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে শিক্ষার্থীরা নগরীতে সমবেত হচ্ছে- এমন গুজবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ৩টি গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার সন্ধ্যায় নগরীর পুলিশ লাইন এলাকায় কুমিল্লা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা এ হামলা চালায়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের পক্ষ থেকে টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও ফাঁকা গুলি করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়াসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

খবর পেয়ে উত্তেজিত কুবির শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইন এলাকায় প্রায় ১ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে। এ সময় ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও শিক্ষার্থীরা জানায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসযোগে ফেরার পথে রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নগরীর পুলিশ লাইন এলাকায় আসার পর কুমিল্লা সরকারি কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়।

একপর্যায়ে কুমিল্লা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা কুবির শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে ভাঙচুর শুরু করে। ওই গাড়িতে থাকা শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে গাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুটি গাড়ি নগরীর রেইসকোর্স এলাকায় আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে কুমিল্লা সরকারি কলেজের ছাত্রদের ধাওয়া করে। এ সময় কলেজের প্রধান ফটকের দুটি দোকান ভাঙচুর করা হয়।

সেই সঙ্গে পুলিশ লাইন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়াসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমুল অভি, জনিসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্লাস শেষে নগরীতে ফিরছিলাম। এ সময় কোটা-সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের কোনো কর্মসূচি ছিল না। কিন্তু কোটাবিরোধী আন্দোলনে আমরা সমবেত হচ্ছি- এমন সন্দেহে আমাদের গাড়িতে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।

কুমিল্লা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত কোটা-সংক্রান্ত বিষয়ে কর্মসূচি পালনের উদ্দেশ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নগরীতে সমবেত হচ্ছিল। বিষয়টি অবগত হয়ে আমরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িটিতে বাধা দিই। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর চড়াও হলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, হামলার কারণ এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে ভাঙচুরকৃত গাড়ি পুলিশ লাইনের ভেতর রাখা হয়েছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরী জানান, ঘটনার বিষয়ে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। কি কারণে ঘটনাটি ঘটেছে এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। সোমবার ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে।

প্রিন্স, ঢাকা