বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির বাণী

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন: “বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণের এই শুভক্ষণে আমি দেশবাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। মহাকাশে এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা হলো। আজকের দিনটি জাতির জন্য অত্যন্ত আনন্দের, গর্বের। এখন থেকে বাংলাদেশ হবে স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য।

আজকের এই গৌরবময় মুহূর্তে আমি পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যিনি স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সাথে বহির্বিশ্বের যোগাযোগের জন্য ১৯৭৫ সালে রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ উৎক্ষেপণ হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই যিনি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মতো সাহসী উদ্যোগ আর সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে বাংলাদেশ সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেল।

একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য বর্তমান সরকার নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত ও সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে ক্যাবলের পাশাপাশি স্যাটেলাইট সেবা সংযোজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ছিল অপরিহার্য। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের ফলে দেশের ব্রডকাস্টিং ও টেলিযোগাযোগ সেক্টরে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে বলে আমার বিশ্বাস। ব্রডকাস্টিং ও টেলিকমিউনিকেশনে পরনির্ভরশীলতা পরিহার করে আমরা এই সেক্টরে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হবো।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বিটিআরসি, প্রকল্প এবং বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ এই স্যাটেলাইট নির্মাণ, উৎক্ষেপণে যাঁরা নিরলস কাজ করেছেন এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছেন আমি তাঁদের সকলকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে যথার্থ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে-এ প্রত্যাশা করি।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

প্রিন্স, ঢাকা নিউজ২৪