কেন মালয়বাসীর কাছে মাহাথির শ্রদ্ধার পাত্র

সুমন দত্ত

বিশ্বে প্রবীণ রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মহম্মদ। দুর্নীতিতে নিমজ্জিত নাজিব রাজাক সরকারের জোটকে ভোটে হারিয়ে তিনি এই গৌরব অর্জন করেন। দুমাস পর মাহাথির মহম্মদের বয়স হবে ৯৩। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ছিলেন তারই উত্তরসূরি। তারপরও দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির প্রশ্নে নিজের ইমেজ মালয়বাসীর কাছে ধরে রেখেছেন মাহাথির মহম্মদ। যার কারণে আজ মালয়বাসী তার কাছেই দেশের দায়িত্বভার তুলে দিয়েছেন। আর ক্ষমতায় এসেই ঘোষণা দিয়েছেন দুর্নীতিতে হারিয়ে যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনবেন তিনি।

মাহাথির মহম্মদ সম্পর্কে কিছু বিষয় জেনে রাখা ভালো। কেন তিনি এই বৃদ্ধ বয়সেও মালয়বাসীর কাছে শ্রদ্ধার পাত্র। প্রথমেই বলতে হয় তিনি একজন শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী নেতা। মালয়েশিয়া দুই ধরনের মালয় জাতি আছে। একটি চীনা বংশোদ্ভূত মালয়, আরেকটি দেশি মালয়। মাহাথির দেশি মালয় গোষ্ঠীর অধিকারের দাবিতে ছিলেন সোচ্চার। চীনা বংশোদ্ভূত মালয়বাসী অর্থনৈতিকভাবে উন্নত। তাদের প্রতিপক্ষ সাধারণ মালয়বাসীকে তিনি উন্নতির শিখরে নিয়ে গেছেন। এটা করতে গিয়ে সাধারণ মালয়বাসীকে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খাটতে হয়েছে। এবং সেটা তার নির্দেশিত পথেই হয়েছে।

মাহাথির মহম্মদ অর্থনৈতিক সংস্কার করেন। কর্পোরেট ওনারশিপ তার আমলেই শুরু হয়। এসব করে তিনি অর্থনৈতিক সঙ্কট দূর করেছিলেন। তিনি দেশটির সংবিধান সংশোধন করে রাজার ক্ষমতা সংকুচিত করে দেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে করেন রাজনীতি মুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তিনি মন্ত্রণালয়ের নজরদারিতে আনেন।

১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়ে। দেশটির মুদ্রা ডলারের বিপরীতে পড়ে যায়। আইএমএফ তখন তাকে যে পরামর্শ দিয়েছিল তাতে কোনো কাজ হচ্ছিলো না। পরের বছর ১৯৯৮ সালে তিনি আইএমএফের সব সুপারিশ বাতিল করে নিজে একক সিদ্ধান্তে ডলারের বিপরীতে রিঙ্গিতের (মালয় মুদ্রার নাম) মান মূল্যায়ন করেন। তাতে কাজ হয়। প্রতিবেশী যেকোনো দেশের তুলনায় মালয়েশিয়ার উন্নতি হয় বেশি।

বিশ্ব রাজনীতিতে তাকে কট্টর ইহুদী বিদ্বেষী বলা হয়। বহু সাক্ষাৎকারে মাহাথির বলেছেন আমি গর্বিত যে আমাকে তারা ইহুদী বিদ্বেষী বলেছে। ফিলিস্তিনদের হত্যা দমন পীড়ন আমাকে ইহুদী বিদ্বেষী করেছে। তিনি এ নিয়ে গর্ববোধ করেন।

মালয়েশিয়ার এখন দ্রব্যমূল্যের আকাশছোয়া। মানুষের জীবন মান বেড়ে গেছে। সে তুলনায় দেশের মানুষের আয় বাড়েনি। এ কারণে দেশটিতে জন অসন্তোষ তৈরি হয়। এরমধ্যে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের তহবিল আত্মসাতের ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়লে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়। আর সেটি নির্বাচনের ফলের মধ্য দিয়ে প্রকাশ হয়।

লেখক : সাংবাদিক