চট্টগ্রাম কাস্টম ও বন্দরকে দুর্নীতিমুক্ত সেবা দিতে হবে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, রাজস্ব আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ হচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টম ও বন্দর। দেশ-বিদেশে মালামাল আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমদানি পণ্য খালাস প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন কাজে স্টেক হোল্ডার সেবা গ্রহীতারা এখানে চরম হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

অতিরিক্ত অর্থ না দিলে কাস্টম ও বন্দরে ফাইল নড়ে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া সার্ভার সমস্যার কারণেও কাস্টমসের কাজে-কর্মে ব্যাঘাত ঘটে। কাস্টম ও বন্দর সংশ্লিষ্ট যারা স্টেক হোল্ডার রয়েছেন তাদের সমন্বয়ে সুশাসন নিশ্চিত করা, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যকে আরো কিভাবে ফ্যাসিলেটেড করা যায় ও সে বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে কাজ করতে হবে। কেননা সুশাসন নিশ্চিত ছাড়া কোন কিছুই সম্ভব নয়।

বন্দর ও কাস্টমসের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে কাজ করলে একদিকে সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। অন্যদিকে রাজস্ব সুরক্ষা বৃদ্ধি পাবে। তাহলে এ দুটো প্রতিষ্ঠানের কাজে-কর্মে গতিশীলতা ফিরে আসবে। মন্ত্রী, এমপিও চেয়ারম্যান কেউ আমাদের কাছে বড় কিছু নয়। যত বাঁধাই আসুক আমরা শক্ত অবস্থানে থেকে আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাবো। চট্টগ্রাম কাস্টম-বন্দরে দুর্নীতিমুক্ত সেবা দিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত “চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস-চট্টগ্রাম বন্দরে দুর্নীতিমুক্ত মানসম্মত সেবা প্রদান” শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম কার্যালয় কর্তৃক আয়োজিত কর্মশালায় প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল- “বন্ধ হলে দুর্নীতি, উন্নয়নে আসবে গতি”।

দুদক কমিশনার বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। বিপ্লবী মাস্টার দ্যা সূর্যসেন ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার সহ অনেক ত্যাগী ও মহান ব্যক্তির জন্ম চট্টগ্রামে। এখানে যদি কোন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি থাকে তা মেনে নেয়া যায় না। আমরা চট্টগ্রামকে আলোকবর্তিকা হিসেবে দেখতে চাই। নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত রেখে মানুষের কল্যাণে কাজ করবো এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে আসবো এটাই সকলের প্রত্যাশা।

চট্টগ্রামের কমিশনার অব কাস্টমস ড. এ কে এম নুরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্ল্যানিং) মো. জাফর আলম (যুগ্ম সচিব)। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্য্যালয়ের পরিচালক মো. আক্তার হোসেন।

কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদক পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাহবুব আলম, মেট্রো কার্যালয়ের উপ-পরিচালক লুৎফর রহমান চন্দন, দুদক কমিশনারের একান্ত সচিব মিজানুর রহমান, কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার নাহিদ হাসান মুকুল, অতিরিক্ত কমিশনার মাহবুব, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহ-সভাপতি মাহবুব আলম চৌধুরী, উইমেন চেম্বারের সহ-সভাপতি আবিদা মুস্তফা, চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম কমু, প্রতিরোধ কমিটির বাঁশখালী উপজেলার সভাপতি তাপস কুমার নন্দী, চন্দনাইশের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

কর্মশালায় চট্টগ্রাম কাস্টম ও বন্দরের বিভিন্নস্তরে কর্মরত কর্মকর্তা, স্টেক হোল্ডার, চেম্বার প্রতিনিধি, বিকেএমইএ প্রতিনিধি, সিএন্ডএফ এজেন্ট, শিপিং এজেন্ট, মহানগর ও বিভিন্ন উপজেলার দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি-সম্পাদকগণ অংশ নেন।

প্রিন্স, ঢাকা