বিএনপি এতিমের টাকা মেরে খেয়ে জনগনকে ধাপ্পা দেয়: মতিয়া

নিউজ ডেস্ক: বিএনপিকে ‘ধাপ্পাবাজির দল’ বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। বৃহস্পতিবার সকালে শেরপুরের নকলা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। উপজেলার শিক্ষক ও স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রীদের নিয়ে সমাবেশটির আয়োজন করা হয়। 

মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিএনপি ধাপ্পাবাজির দল। এ দলের নেতা খালেদা জিয়া দুর্নীতি করে জেলে গেছেন। এরা এতিমের টাকা মেরে খেয়ে জনগনকে ধাপ্পা দেয়। তাদের নেতা তারেক রহমান দন্ডপ্রাপ্ত আসামি।

তিনি বলেন, তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবায়েদা এবং মেয়ে জাইমা রহমান পাসপোর্ট সারেন্ডার করেছে। বিদেশে বসে কোম্পানি খুলে ব্যবসা করছে তারা। তথ্য গোপন রেখে তাকে তারকেকে কো চেয়ারম্যান বানিয়েছে দল। এটা ধাপ্পাবাজি ছাড়া আর কি হতে পারে।

এসময় কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করে রাজনীতি হয় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আমরা এসব রাজনীতি জানিনা, বুঝিনা।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, ওয়ান ইলেভেনের পর সাইদ ইস্কান্দারের আপন ভায়েরা ভাই জেনারেল মাসহুদ বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে এতিমের টাকা চুরি করার অভিযোগ এনে মামলা করেন।

তিনি বলেন, উনার (খালেদা) নামে তার আপন আত্মীয় মামলা করেছে। গ্রামে যেটাকে বলে; আমরা আমরাই। তাহলে আমাদের কি করার আছে? আমাদের গালিগালাজ করেন কেন?

সমাবেশে কৃষিমন্ত্রী তার টিআর-কাবিখার অর্থ থেকে গ্রামের যেসব এলাকায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রী রয়েছেন এমন ১০টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের ধাত্রীদের হাতে ডেলিভারি বেড তুলে দেন। এছাড়া ১৮৩টি সরকারি- বেসরকারি ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের হাতে শিক্ষার্থী অনুপাতে ১০-১৫ জোরা করে লোহার বেঞ্চ দেন তিনি।

পরে নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের স্বাধীনতা মঞ্চেও প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মতিয়া চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, আগে যখন বেগম জিয়া আদালতে হাজির দিতে আসতেন আমরা দেখতাম তাকে দুইজন ধরে নামাচ্ছে। কিন্ত জেলে বিশ্রামে থেকে তিনি ফিট হয়েছেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, জেল খানার বিশ্রামটা বেগম জিয়ার জন্য খুব দরকার। কেননা উনি যখন বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে গেলেন তখন তার জন্য হুইল চেয়ার রাখা হয়েছিল। কিন্তু হুইল চেয়ার ছাড়াই তিনি চমৎকার ভাবে হেঁটে গেলেন।

আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি মাছ খায়না মাছের ঝোল খায়। তারা মার্কা নিয়ে উপজেলা, পৌরসভা নির্বাচন করে। অথচ সংসদ নির্বাচন করে না। তাদের দ্বিচারিতা মানুষ বোঝে।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, তাই যথাসময়ে নির্বাচন হবে। যারা নির্বাচনে আসবে ভাল। না আসলে নির্বাচন ঠেকে থাকবে না।

সমাবেশ শেষে মন্ত্রী উপজেলার ১৬১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের হাতে ৮৪০ জোড়া লোহার বেঞ্চ প্রদান করেন। এছাড়া বারোমারী খ্রিস্টান মিশনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রীসহ ৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একটি করে ডেলিভারি বেড দেন তিনি।

দুটি সমাবেশে কৃষিমন্ত্রীর সাথে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন, পুলিশ সুপার মো. রফিকুল হাসান গণি, নকলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা শফিুকুল ইসলাম জিন্নাহ, পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন, নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল হক, সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুর হক, পৌর মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।