বাংলাদেশ ভবন হবে দুই দেশের মৈত্রীর প্রতীক: নূর

স্টাফ রিপোরর্টার: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অল্প কিছুদিন পরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে নবনির্মিত বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করবেন। এটি হবে দুই দেশের মৈত্রীর প্রতীক। এ ভবন তথা কেন্দ্র ভারতে বাংলাদেশের সাহিত্য ও শিল্প-সংস্কৃতি চর্চা ও গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।

মন্ত্রী বুধবার রাতে রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এর প্রধান মিলনায়তনে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশন আয়োজিত ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ৮ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বিদায়ী পরিচালক জয়শ্রী কুণ্ডুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

প্রধান অতিথি বলেন, ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের মানুষের কাছে খুব প্রিয় ছিলেন। ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আহবানে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। তখন ইন্দিরা গান্ধী ও তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী শরণার্থীকে আশ্রয় ও সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে মানবিকতার যে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল তা সত্যিই বিরল। ঐ সময়ে ইন্দিরা গান্ধী ও ভারতীয় সরকার যদি বাংলাদেশকে সাহায্য-সহযোগিতা না করত, তবে মুক্তিযুদ্ধ হয়ত আরো দীর্ঘায়িত হত এবং শরণার্থীদের দুর্ভোগের অন্ত থাকত না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের এ বন্ধুত্ব রক্তের বন্ধন। এ বন্ধন ছিন্ন হবার নয়। কেননা, মুক্তিযুদ্ধে বহু ভারতীয় সৈন্য তাঁদের জীবন বিলিয়ে দিয়ে এ দেশের স্বাধীনতা অর্জন সহজতর করেছিল।

মন্ত্রী বলেন, দুইটি দেশ পাশাপাশি থাকলে কিছু স্বার্থের সংঘাত ঘটতেই পারে-এটাই স্বাভাবিক। ভারত ও বাংলাদেশ তাঁদের ছিটমহল সমস্যাসহ কিছু দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সমস্যা ইতোমধ্যে নিরসন করেছে। এ ধরনের সমস্যাগুলো দুই দেশের সম্পর্কে চিড় ধরাতে পারবে না, যদি দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন অটুট থাকে।

অনুষ্ঠানে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে সংগীত, নৃত্য ও যোগব্যায়ামের সমন্বয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।