নদী বাঁচলে জলাবদ্ধতা হবে না

কেশবপুর প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে উপজেলার জলাবদ্ধতা থেকে জনগুরুত্বপূর্ন সরকারি রাস্তা রক্ষা করতে সংস্কার কর্মসূচীর অংশ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ইতি মধ্যে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারের মাধ্যমে ৩০ টি রাস্তার সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে। মাছ চাষীরা (ঘের মালিক) রাস্তাকে মজবুত করতে এবং বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করতে প্রতিটি রাস্তার দু’পাশে অতিরিক্ত ৬ ফুট করে ১২ ফুট মজবুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করছেন।

সরেজমিন বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কেশবপুর পৌর এলাকা, পাঁজিয়া ও গৌরীঘোনা সড়কের বিভিন্ন স্থানে যেয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই ধারে লাল পতাকা দিয়ে রাস্তার সীমানা নির্ধারন করা হয়েছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের সুজাপুর সংলগ্ন বিল গরালিয়া মাছের ঘের পরিচালোনা কমিটির সভাপতি আমিন দফাদার বলেন, আমাদের বিল গরালিয়া মাছ চাষের প্রকল্পের তহবিলের টাকা দিয়ে ‘স্কভেটর’ মেশিন দিয়ে রাস্তার পাশর্^ ৬ ফুট করে বেড়ি বেধেঁ দিচ্ছি। এখন রাস্তার ক্ষতি না হওয়ার সম্ভবনা নেই।

এদিকে পাঁজিয়া ইউনিয়নের ‘মাগুরাডাঙ্গা মোড় হতে ব্যাসডাঙ্গা-পাঁচবাঁকাবর্শি বিলের ভিতর দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেমের বাড়ির (খইতলা) রাস্তাটি গড়ভাঙ্গা বাজারে মিশেছে। ওই রাস্তার দুই ধারের পূর্বাংশে প্রায় ২০০ বিঘা জমি মোদাচ্ছের হোসেন ও পশ্চিমাংশে প্রায় ২০০ বিঘা জমি মাছ চাষী কামরুজ্জামান বিশ্বাস কৃষকদের নিকট জমি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছেন।

কৃষক বাবর আলী বলেন, ওই বিলের ভিতর রয়েছে মাগুরাডাঙ্গা খাল। খালটি একসময় খর স্রোত ছিল। বর্তমানে কিছু অংশ দখল করে নেয়া হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের পথ সরু হয়ে গেছে। খালটি মিশেছে হরিহর ও আপার ভদ্রা নদীতে। কিন্তু নদী পলি জমে প্রায় ২ মিটার উঁচু হয়ে গেছে। যে কারনে বিলের পানি নিষ্কাশন হতে পারে না। এলকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তিনি নদী খননের দাবী করেন। কৃষক মেহের আলী বলেন, নদী বাঁচলে এলাকায় জলাবদ্ধতা হবে না। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ সফল হবে। রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ হবে না। কেশবপুর উপজেলায় প্রায় ৪ শ’ কিলোমিটার কাঁচা ও পাঁকা রাস্তা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে অধিকাংশ রাস্তা ডুবে যায়। ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার রাস্তা ধসে যায়। এবার রাস্তার দুই পাশ বেড়িবাঁধ দেয়ার কারণে কিছুটা ক্ষতি কম হবে বলে দাবি করেছেন বেতিখোলার শিক্ষক শহিদুল ইসলাম।

জলাবদ্ধতা ও রাস্তার ভাঙ্গন প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, হরিহর ও আপার ভদ্রা নদ খননে ৪৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলে নদ খনন করা হবে। বর্তমানে বিলের তলা ও জনপদ থেকে নদের তলদেশ ২ মিটারেরও বেশি উঁচু। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা শুরু হলে জরুরী ভিত্তিতে নদের পলি অপসরনের কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান বলেন, ‘জনস্বার্থে ও সরকারের অর্থ সাশ্রয় করতে রাস্তা ক্ষতি হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মাছ চাষীদের দিয়ে প্রতিটি রাস্তার দু’পাশে অতিরিক্ত ৬ ফুট করে ১২ ফুট মজবুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করানো হচ্ছে। এ কারণে এলাকায় জলাবদ্ধতা কম হবে।