পরাজয় ঠেকাতে সরকার গণগ্রেপ্তার করছে: মঞ্জু

নিউজ ডেস্ক: খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করে বলেছেন, ‘পরাজয় ঠেকাতেই সরকারের নির্দেশনায় পুলিশ প্রতিনিয়ত আমার দলীয় নেতা-কর্মীদের বাসায় বাসায় গিয়ে তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও হয়রানি করছে।’

বুধবার সকালে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘আজকেও একটি রাত আমার নির্ঘুম কেটেছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকেই আমি এবং আমার কর্মীদের ওপর পুলিশ দ্বিতীয় দফায় শহরজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে, গ্রেপ্তার করেছে, হেনস্তা করেছে, পরিবারে সদস্যদের গালিগালাজ করেছে, দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে, এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়েছে।’

মঞ্জু বলেন, ‘কেসিসির পাঁচটি থানায় এই সাঁড়াশি অভিযানে শত শত পুলিশ অংশ নিয়েছে। দুই শতাধিক নেতা-কর্মীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সংবাদ পাওয়ার পর আমি পুলিশ কমিশনারকে ফোন করেছিলাম। তিনি আমাকে বলেছেন, গ্রেপ্তার অভিযান করার মতো নির্দেশনা তাদের নাই। তার এ বক্তব্যকে সত্য ধরেই আমি অপেক্ষায় ছিলাম।’

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আরো অভিযোগ করেন, ‘পরাজয় ঠেকাতেই সরকার এগুলো করছে। সরকার পুলিশকে অসৎভাবে ব্যবহার করছে। আমি বারবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছি, যতই ঝড় আসুক, বিএনপি এই নির্বাচন থেকে সরে যাবে না। এখনো নেতা-কর্মীদের মনোবল অটুট আছে।’

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত সোয়া ১টায় মহানগর বিএনপির সহসম্পাদক একরামুল কবির মিল্টনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পুলিশের উপস্থিতিতেই তার স্ত্রী (ফোনে) কেঁদে কেঁদে আমাকে বলছে, তার স্বামীকে (মিল্টন) বলা হচ্ছে, ওসি সাহেব দেখা করতে বলেছেন। ওয়ারেন্ট, মামলা কিছুই নেই, কেন দেখা করবে? আমি বললাম, আপনি (মিল্টনের স্ত্রী) পুলিশকে জিজ্ঞেস করেন যে, কোনো ওয়ারেন্ট আছে কি না। পুলিশ বলেছে, কোনো ওয়ারেন্ট নেই, ওসি সাহেব তাকে ডেকেছেন।’

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘পুলিশ ধরপাকড় চালাবে, নির্বাচনী কাজও ইনশা আল্লাহ চলবে। এই যুদ্ধে যদি কেউ না থাকে, তাহলে আমি একাই থাকব। আমি সবাইকে বলছি, সময়মতো বেরিয়ে আসুন।’

এ ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিটি পুলিশিং) সোনালী সেন বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় দেখা হচ্ছে না।’

বিএনপির মেয়র প্রার্থীর অভিযোগ সম্পর্কে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা নিয়মিত অভিযান। নিয়মিত অভিযানে এ ধরনের গ্রেপ্তার থাকে।’

উল্লেখ্য, আগামী ১৫ মে খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।