নজরুল জয়ন্তীর অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন পর এবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মজয়ন্তী ও জন্মবার্ষিকীর জাতীয় পর্যায়ের মূল অনুষ্ঠানমালা এবছর কবির কৈশোর স্মৃতি বিজড়িত ত্রিশালের দরিরামপুর নজরুল একাডেমী মাঠে স্থাপিত স্থায়ী নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ১১ই জৈষ্ঠ্য, ২৫ শে মে শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন বলে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন। এ ছাড়াও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যা বঙ্গবভন এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকীর জাতীয় পর্যায়ের মূল অনুষ্ঠানমালা সফল করতে রবিবার সকাল ১১টায় এক প্রস্তুতি সভা ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোযাজ্জেম হোসেন বাবুল, সাংস্কৃতিজন অধ্যাপক আমীর আহাম্মদ চৌধুরী রতনসহ জেলা এবং ত্রিশাল উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

আগামী ২৫শে মে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ২৬ ও ২৭শে মে জেলা প্রশাসন অনুষ্ঠানমালার ব্যবস্থাপনা করবে বলে জানা গেছে।

এদিকে দীর্ঘদিন পর ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকীর জাতীয় পর্যায়ের মূল অনুষ্ঠানমালা কবির কৈশোর স্মৃতি বিজড়িত ত্রিশালে আয়োজন করা হচ্ছে এবং ওই অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ আসবেন এই খবর শুনে ত্রিশালসহ ময়মনসিংহের সকল পর্যায়ের কবি ভক্তদের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা। ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশে প্রথম ত্রিশালে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকীর আয়োজন করা হয়েছিলো।

উৎকালীন জেলা প্রশাসক পিএ নাজির ছিলেন এর উদ্যোক্তা। এরপর ১৯৯০ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উদযাপন করেন। এরপর কয়েক বছর ত্রিশালে কবি নজরুল জয়ন্তী জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হলেও বাধ সাধে অন্যরা। তারপর নানা কারণে রাজধানী ঢাকায় আয়োজন করা হয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকীর জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানমালা।

ত্রিশালের কাজির শিমলার দারোগা রফিজ উদ্দিন আসানসোলের চাকুরীরত অবস্থায় আসানসোলের এক রুটির দোকান থেকে কিশোর নজরুলকে ত্রিশালের কাজির শিমলায় নিয়ে আসেন। সেখান থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে ত্রিশাল সদরে দরিরামপুর হাইস্কুলে (বর্তমানে নজরুল একাডেমী) ভর্তি করিয়ে দেন। কবি এই স্কুল প্রায় দুই বছর পড়ালেখা করেন। স্কুলের নিকটে ত্রিশাল নামাপাড়ায় বিচুতিয়া বেপারী বাড়িতে নজরুলকে জায়গীর করে দেন দারোগা রফিজ উদ্দিনের আত্মীয়রা । সেখান থেকে শুকনি বিলের ধার দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতেন নজরুল।

পথিমধ্যে শুকনি বিলের ধারে অবস্থিত বর্ধিষ্ণু বটবৃক্ষে চড়ে কিশোর কবি বাঁশি বাজাতেন উদাস সূরে। সেখানে গো-রাখালদের সাথে গুল্লাছুট ও দাঁড়িয়া বান্দা খেলায় (ত্রিলালে তৎকালীন জনপ্রিয় খেলা) মেতে উঠতেন কিশোর কবি নজরুল । সেই শুকনি বিলের ধারে ঐতিহাসিক বটবৃক্ষ চত্বরে উড়ে উঠেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রিন্স, ঢাকা