বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের স্থায়ী অধিকার সংরক্ষণ আইনের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদানের দাবিতে গতকাল শনিবার বিকেল ৩টায় মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সংহতি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদের সভাপতিত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সরোয়ার আলম চৌধুরী মনি ও সায়রা বানু রুশ্নির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি, শহীদ বুদ্ধিজীবী আলীম চৌধুরীর সন্তান ডা. নুজহাত চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট সুনীল সরকার, মহিলা নেত্রী এডভোকেট বাসন্তি প্রভা পালিত, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, সৈয়দুল হক সৈয়দ, সাধন চন্দ্র বিশ্বাস, এফএফ আকবর খান, খোরশেদ আলম (যুদ্ধাহত), বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী, শরফুদ্দিন চৌধুরী রাজু, কাজী রাজীশ ইমরান, মশরুর হোসেন, শামীমা হারুন লুবনা, আহসাব উদ্দিন তালুকদার, বোরহান উদ্দিন চৌধুরী, একরামুল হক রাসেল, সাজ্জাদ হোসেন, কমু, মিজানুর রহমান সজীব, কামরুল হুদা পাভেল, ইঞ্জিনিয়ার মশিউজ্জামান সিদ্দিকী, মো. সেলিম উদ্দিন, সীমান্ত তালুকদার, সালাউদ্দিন সাকি, মো. জহির, মাহবুবুর রহমান সিদ্দিক, নওশাদ আহমদ প্রমুখ। সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর, জেলা, থানা, উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, নগর ও জেলার ছাত্রলীগ, যুবলীগ, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ড ও মুক্তিযোদ্ধার পরিবারবর্গের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সংহতি মহাসমাবেশে বক্তারা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে তারা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকিস্তানি বর্বর বাহিনীকে বিতারিত করার মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ’ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ছিনিয়ে এনেছে। ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জ্বতের বিনিময়ে আমাদের এ স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধারা কখনও তাদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করেনি।

তাদের সন্তানদের চাকরির জন্য কোন কোটা লাগবে না। তারা নিজস্ব মেধা দিয়ে নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে দেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে আসবে। বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে দেশ বিরোধী রাজাকারদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হতো। তাদের অযোগ্য সন্তানেরা কোটা সুবিধা ভোগ করে ও অন্য উপায়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছে। আমাদের সন্তানদের চাকরি হয় নি। এটা জাতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অবমাননার সামিল।

যুদ্ধাপরাধী ও দেশ বিরোধীরা যখন গলা উচিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কথা বলে তখন নিজেদের খারাপ লাগে। তাদেরকে ধিক্কা জানাবার ভাষা কারো নেই। যারা রাজাকার হিসেবে বীর দর্পে এদেশে ঘুরে বেড়ায় তখন জাতি হিসেবে কলঙ্ক মনে হয়। পাকিস্তানের পেতাত্মরা এখনো বাংলাদেশে বসবাস করছে। বাংলাদেশে অনেকে জজ, ব্যারিস্টার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও আরো উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা হতে পারবে কিন্তু আর কেউ মুক্তিযোদ্ধা হতে পারবে না। আমরা অন্ধকার যুগে ফিরতে চাই না, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা বাংলাদেশকে প্রতি মুহূর্তে ভালোবাসি।

বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ছাড়া কখনও বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যারা অসম্মান করবে তাদের এদেশে থাকার কোন অধিকার নেই। যারা নিজের দেশের বিরুদ্ধে কথা বলে তারা যত মেধাবীই হোক তাদের দ্বারা দেশের কোন উন্নয়ন হবে না।

যেসব মেধাবী দেশকে ভালবাসে না তাদের জায়গা কোথাও নেই। বাংলাদেশে স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি ঠেকাতে হবে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যথোপযুক্ত সম্মান দিতে হবে। অসম্মান করলে আমরা চুপ থাকবো না। আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। রাজনৈতিক অপশক্তিকে এদেশ থেকে বিতাড়িত করবো। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে রাজাকারদের ঠাঁই নেই। জাতির পিতার কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে।

তাঁর নেতৃত্বে আমরা একসাথে শপথ নিয়ে কাজ করবো। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা দশ লাখ রোহিঙ্গাকে এদেশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মানবতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর উপর আস্থা রাখুন। আমাদের শেষ ভরসা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর নেতৃত্বে আমরা উন্নত বাংলাদেশ গড়বো। নতুন প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস চর্চার মাধ্যমে দেশ পরিচালনায় ভ‚মিকা রাখবে। দেশের সার্বিক কল্যাণে যুদ্ধাপরাধী ও তাদের সন্তানদের বর্জন করতে হবে। সমাবেশের পূর্বে বেতার-টিভি শিল্পীরা মুক্তিযুদ্ধের গান পরিবেশন ও কবিতা আবৃত্তি করেন।

প্রিন্স, ঢাকা