ডে-নাইট ফাউন্ডেশনের পরিচালক গ্রেফতার

মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুরের কালকিনিতে গ্রাহকদের প্রায় ২০-৩০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হওয়া ডে-নাইট পরিবেশ উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এনজিওর ২ পরিচালক স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোররাতে মাদারীপুর জেলার কালকিনির এনায়েতনগর ইউনিয়নের দরিচর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ । এনজিওটি প্রায় ১০ হাজার গ্রাহকের টাকা নিয়ে গত ১০ এপ্রিল উধাও হয়েছিল।

পুুলিশ ও ভুক্তভোগীরা জানায়, মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার এনায়েতনগর এলাকার দরিচর গ্রামের মনিরুজ্জামান ওই এলাকায় গত ২০০৭ সালে ডে-নাইট পরিবেশ উন্নয়ন ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও অফিস গড়ে তোলেন। এবং সেখানে তিনি কর্মী নিয়োগ দেন প্রায় অর্ধশত।

এনজিওটির উপজেলার প্রায় ১০ টি জনবহুল হাট বাজারে ব্রাঞ্চ অফিস রয়েছে। গ্রাহকদের দৃষ্ঠি আকর্ষন ও আস্থা অর্জনের জন্য তিনি এনায়েতনগর ওই গ্রামে নির্মান করেন একটি বিলাশবহুল বাড়িও। এ বাড়িতে বসেই চালানো হত এনজিওর সকল কার্যক্রম। দৈনিক. সপ্তাহ, মাসিক সঞ্চয় সংগ্রহ ছাড়াও নেয়া হতো মাসিক মুনাফায় লাখ লাখ কোটি টাকা। অনেকে জমি বিক্রি পেনশনের টাকাও দিয়েছে এ প্রতিষ্ঠানে।

গ্রাহকদের আস্থা বাড়াতে ৫০ শতাংশ লভ্যাংশের লোভনীয় অফারসহ নানান চটকদারি অফার দেয়। এককালীন ফিক্স ডিপোজিটে মাসিক ২ হাজার টাকা ঘোষনা করে তা রেখে দিত মাসিক সঞ্চয়ে। প্রতিষ্ঠানটি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিতে অধিক মুনাফা পাওয়ার প্রলোভন দিয়ে প্রায় ১০ হাজার গ্রাহকদের কাছ থেকে ২০-৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে প্রতিষ্ঠানটির খোদ মাঠ কর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করে জানায়। তবে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে লোপাটের এ অংক কয়েকগুন বেশি বলে গ্রাহকরা জানান। গত ১০ এপ্রিল মনিরুজ্জামান স্ব পরিবারে তার বিলাশ বহুল বাড়ি ঘড় তালাবদ্ধ করে উধাও হন। তার এ উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় গ্রাহকদের চাঁপে চরম বিপাকে পরেছেন ওই এনজিওর মাঠ কর্মীরা।

গ্রাহকরা টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য রীতিমত চাপ প্রয়োগ করে আসছেন মাঠ কর্মীদের। হামলা চালাচ্ছেন তাদের বাড়ি-ঘরে। গ্রাহকদের অধিকাংশই খেটে খাওয়া ও মধ্যবিত্ত পরিবার। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মাঠ কর্মীরাই মাদারীপুর আদালতে মামলা দায়ের করে। শনিবার ভোররাতে কালকিনি থানা পুলিশ এনায়েতনগর ইউনিয়নের দরিচর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে এনজিওটির পরিচালক স্বামী হুমায়ুন কবির খোকন (৬০) ও স্ত্রী হাসিনা বেগমকে (৫০) গ্রেফতার করেছে।

কালকিনি থানার ওসি কৃপাসিন্ধু বালা বলেন, এই এনজিওটির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা হওয়ায় স্বামী-স্ত্রী দুই পরিচালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুজ্জামানকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রিন্স, ঢাকা