মায়ের খুনি আটক

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি: কেরানীগঞ্জে জিনজিরা ছেলের ছুরিকাঘাতে মা খুন হয়েছে । এই ঘটঁনায় ঘাতক ছেলে তাজুল ইসলাম শাওন(২৭)কে থানা পুলিশ আটক করেছে। নিহতের নাম হাজী শাহেদা বেগম(৫৫) । এই মর্মান্তিক ঘটঁনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কেরানীগঞ্জ মডেলা থানার জিনরাজিরা মডেল টাউনে ইব্রাহিম ভবনের ৪র্থ তলায়। থানা পুলিশ সকালে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করেছে। নিহতের স্বামীর নাম হাজী মোঃ ফজলুল হক। তাদের বাড়ি পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানার সোহাগদল গ্রামে।

নিহতের ছেলে মোঃ জাকির হোসেন জানান,তার ছোট ভাই ঘাতক তাজুল ইসলাম শাওন একজন মানসিক রোগি । তার মানুসিক সমস্য কয়েক দিন যাবত বেড়ে যায়। মায়ের জারফুঁকে তার ভাই তাজুল ইসলাম শাওন অনেকটা সুস্থ হয়ে যায় বলে তার মাকে দেশের বাড়ি থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

গত সবৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ তার ভাই স্থানীয় একটি কবরস্থানে বিবস্ত্র অবস্থায় শুয়ে থাকলে তাকে সেখান থেকে লোকজনের মাধ্যমে ধরে এনে এক হুজুরের মাধ্যমে জারফুক করে কিছুটা সুস্থ করে তোলা হয় । পরে রাতে জিনজিরা মডেল টাউনের ১নং রোডে ৩নং বাড়ি ইব্রাহিম ভবনের ৪র্থতলায় তার ভাড়া ফ্লাটের একটি রুমে নিহত মা শাহেদা বেগম ও ভাই ঘাতক তাজুল ইসলাম শাওন ঘুমায় । পাশের রুমেই তার স্ত্রী সন্তানেরা ঘুমিয়ে থাকে । গভীর রাতে হঠাৎ তার মায়ের চিৎকারে স্ত্রী(জাকিরের স্ত্রী) জেগে উঠে এবং তাকে ফোন দেয়

। স্ত্রীর ফোন পেয়ে সে ঘঁটনাস্থলে ছুটে এসে রুমের দরজা খুলতে না পেরে ঘঁটনাটি কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ ঘঁটনাস্থলে এসে রুমের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে দেখতে পায় তার মায়ের রক্তাক্ত নিথর দেহ ঘাটের উপর পড়ে আছে এবং পাশেই ঘাতক শাওন বসে আছে ।

এসময় পুলিশ ঘাতক শাওনকে আটক করে । জাকির হোসেন আরা জানান, তার ছোট ভাই শাওন কয়েক বছর পুর্বে মোটরসাকেল দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পরথেকে তার এই মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এব্যাপারে নিহতের মেঝো ছেলে জাকির হোসেন বাদী হয়ে মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোঃ ওবায়দুর রহমান জানান, নিহত শাহেদা বেগমের শরীরে একাধিক ধারালো ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এব্যাপারে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)) শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের জানান, ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সাথেসাথেই ঘাতককে আটক করা হয়েছে। তবে ঘাতকের মানসিক সমস্যা রয়েছে বলে স্বজনদের দাবী।

প্রিন্স, ঢাকা