মাদকে ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল ও এসআই পূত্র বিদেশি পিস্তল, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স অবস্থান নিয়েছেন। ওসি জানান, মাদকের ব্যাপারে পুলিশসহ কোনো প্রভাবশালী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

পুলিশ সুত্র জানায়, ময়মনসিংহ শহরের নওমহল সারদা ঘোষ রোড এলাকা থেকে গত বুধবার রাতে কর্মরত এক পুলিশ কনস্টেবলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের দেহ তল্লাশি করে ৮০০টি ইয়াবা উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন কনস্টেবল মোকছেদুল ইসলাম (৩২), কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা সৌরভ (২০) ও সুনামগঞ্জের বাসিন্দা দেবাশীষ (২৫)। মোকছেদুল ময়মনসিংহ পুলিশ লাইনসে কর্মরত।

এ বিষয়ে ফাঁড়ির শহর উপপরিদর্শক (টিএসআই) ফারুক হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে শহরের নওমহল সারদা ঘোষ রোডে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনজনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদক আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।

এ ছাড়া মঙ্গলবার বিকেলে মাসুদ পারভেজ (২৩) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর শরীর তল্লাশি করে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ৭ দশমিক ৬৫ বোরের একটি পিস্তল, দুটি গুলি, একটি ম্যাগজিন ও ১০০ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। মাসুদের বাবা এ কে এম ইদ্রিস আলী জামালপুর সদর থানায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত আছেন।

তারা পরিবার নিয়ে ময়মনসিংহ শহরের পুরোহিতপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। পরে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে মাসুদকে ময়মনসিংহ কারাগারে পাঠানো হয়।

ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান বুধবার সন্ধ্যায় এ খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাসুদ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। মাসুদের বড় ভাই শাওন পারভেজও অস্ত্র, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের একাধিক মামলার আসামি।

ওসি জানান, বিশেষ অভিযান চলাকালে মঙ্গলবার দুপুরে শহরের চরপাড়া এলাকায় বাটা শোরুমের সামনে এক যুবককে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। এ সময় সন্দিগ্ধ যুবক মাসুদ পারভেজের দেহ তল্লাশি করে বিদেশি পিস্তল, গুলি ম্যাগজিন ও ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মঙ্গলবার বিকেলেই আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মাসুদের নামে অবৈধ অস্ত্র, গুলি ও মাদক রাখার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে বলেও জানান ওসি আশিকুর রহমান। মাসুদকে ধরতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল পুলিশ ।

অভিযানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. আশিকুর রহমান, এসআই ফারুক আহাম্মদ, পরিমল চন্দ্র দাস, আনোয়ার হোসেন, আজিজুল হক ও আকরাম হোসেন, এএসআই তারেক হাসান ও জিল্লুর রহমানসহ বেশ কিছু পুলিশ সদস্য এই অভিযানে অংশ নেন।