দশ মাসে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ১৭.৫১%

নিউজ ডেস্ক: প্রবাসী আয় নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা কাটতে শুরু করেছে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। টানা দুই অর্থবছর রেমিট্যান্স কমার পর এবার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে সে ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ সময়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীরা মোট এক হাজার ২০৯ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৮০ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে গত এপ্রিলে ১৩২ কোটি ৭২ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায়, যা ২৩ কোটি ৪৫ লাখ ডলার বা ২১ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। আর আগের মাস মার্চের তুলনায় বেড়েছে দুই কোটি ৭৪ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ১১ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ডলারের বিপরীতে টাকার মান বৃদ্ধি, ব্যাংকিং চ্যানেলের সঙ্গে খোলাবাজারের ডলার দরে তারতম্য কমে আসা, অবৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানো বন্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থানসহ বিভিন্ন কারণে রেমিট্যান্স বাড়ছে। এক বছর আগের তুলনায় প্রতি ডলারে এখন তিন থেকে চার টাকা বেশি পাচ্ছেন রেমিটাররা। এ ছাড়া প্রবাসীদের কাছে গিয়ে যেসব হুন্ডিকারী অর্থ সংগ্রহ করে তাৎক্ষণিকভাবে সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছে দেয়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সব মিলিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়ছে।

গত অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমে এক হাজার ২৭৭ কোটি ডলারে নেমে আসে। এর আগের অর্থবছরে কমেছিল ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এর আগে দীর্ঘ ১৩ বছর পর ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স কমেছিল ১ দশমিক ৬১ শতাংশ। এভাবে রেমিট্যান্স কমতে থাকায় তা সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সর্বশেষ হুন্ডি চ্যানেলের সবচেয়ে বড় উপায় হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নাম উঠে আসায় তা ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

বরাবরের মতো এপ্রিল মাসেও সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। এসব ব্যাংকের মাধ্যমে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। আর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণকারী ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে আগের মাসের তুলনায় কিছুটা কমেছে। এপ্রিলে ব্যাংকটির মাধ্যমে ২৬ কোটি ৬২ লাখ ডলার এলেও আগের মাসে এসেছিল ২৮ কোটি ২৬ লাখ ডলার। গত মাসে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার, বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এক কোটি ৪১ লাখ ডলার এবং বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি নয় লাখ ডলার।