থামছে না অঙ্গ হারিয়ে মৃত্যুর মিছিল

নিলয় পা হারিয়ে গাড়িতে

সুমন দত্ত

দেশে দুর্ঘটনায় হাত পা হারানো লোকের মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলছে। সর্বশেষ নওগাঁয় নিলয় নামে এক নবম শ্রেণির ছাত্র দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। কেন এই দুর্ঘটনা আর কেনই বা বাঁচানো যাচ্ছে না এসব রোগীদের। হাত পা হারিয়ে কত লোক এদেশে দিব্যি বেচে আছে। তাদের মৃত্যু না হলে কেন এদের মৃত্যু হচ্ছে? চিকিৎসা ব্যবস্থায় কেন এত অবনতি। ইনফেকশন জনিত এসব রোগীর মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না। দেশের নামী দামী কোম্পানির ইনফেকশন বিরোধী ওষুধ গুলোর মান যাচাইয়ের সময় এসেছে। আর সময় এসেছে যানবাহনের ড্রাইভারদের ওপর রাশ টেনে দেয়া। যে কেউ ড্রাইভার হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। সঠিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ড্রাইভার নিয়োগ দিতে হবে। রাস্তায় গাড়ির অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থা আধুনিক করতে হবে। গাড়ি চলাচলের সঠিক রাস্তা নির্ধারণ করতে হবে।

খোজ নিয়ে জানা যায় রাজধানী ঢাকা শহরে বিভিন্ন রুটের গাড়িগুলো মালিক পক্ষ চুক্তি ভিত্তিক শ্রমিক পরিবহন সমিতিকে ছেড়ে দেয়। এরপর শ্রমিক পরিবহন সমিতি বাসের চালক ও হেলপারকে একটি টার্গেট দিয়ে দেয়। এই টার্গেট পূরণ করতে গিয়ে তৈরি হয় একই রুটের একাধিক বাসের মধ্যে প্রতিযোগিতা। অথবা একই লাইনের একই কোম্পানির দুটি বাসের প্রতিযোগিতা। রাস্তায় একজন আরেকজনকে পাশ কাটানোর প্রতিযোগিতা চলে। এতে রাস্তা পারাপার থেকে শুরু করে বাসে ওঠা যাত্রীরা দুর্ঘটনার শিকার হন। রাজীবের হাত হারিয়ে মৃত্যু সে ঘটনারই একটি উদাহরণ। এমন ঘটনা এখন প্রায়ই পত্রিকার খবর হচ্ছে।

রাস্তায় যেসব বাস প্রতিযোগিতা করে সেগুলো সনাক্ত করা কঠিন কোনো কাজ নয়। বাসের বডিতে আছে তার আলামত। একটি বাস কতবার অন্য বাসকে ঘষা দিয়েছে তার চিহ্ন বহন করছে সেই বাস। সেগুলো দেখেই ট্রাফিক পুলিশ সেই বাসটিকে প্রতিযোগিতার অভিযোগে জব্দ করে তার লাইসেন্স বাতিল কিংবা স্থগিত করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি সদরঘাট থেকে মিরপুর যাওয়া আসা করা বিহঙ্গ পরিবহণের বাসগুলোর দিকে দেখুন। তাদের কোনো কোনো বাস ঢলাঢলির কারণে রং পর্যন্ত উঠে গেছে। তেমনি রামপুরা থেকে আসা তুরাগ, সুপ্রভাত লোকাল কিংবা ভিক্টর। এসব বাস লক্কড় ঝক্কর ও রং উঠে যাওয়া। গাবতলী ৭ নম্বর বাস না আছে আসন ভালো, না আছে বাসের বডি। দিব্যি চলছে এই বাস। কিংবা ৮ নম্বর যাত্রাবাড়ী। এভাবে ঢাকার রাজপথে চলা অসংখ্য মানহীন বাস চালাচ্ছে কম বয়সী চালক। আর রাস্তায় তারা করছে একজন আরেকজনকে টেক্কা দেয়ার প্রতিযোগিতা। বিআরটিএ ও রাজধানীর ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্ট এসব দেখেও দেখছে না। গণপরিবহনে অনিয়ম দুর্নীতি রোধে সরকারকে কঠোর হতে হবে। তা না হলে অঙ্গ হারিয়ে এই মৃত্যুর মিছিল থামবে না।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম