জিন্নাহর ছবি নিয়ে আলিগড়ে উত্তেজনা অব্যাহত

নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের স্থপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর একটি প্রতিকৃতি নিয়ে অশান্ত হয়ে উঠেছে ভারতের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়ন ভবনের ওই প্রতিকৃতি থাকবে কিনা তা নিয়ে দ্বন্বে ওই এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধের পাশাপাশি ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এরই মধ্যে জিন্নাহর ছবির সমর্থকদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ডেকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলার অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

১৯৩৮ সালে ছাত্রদের আমন্ত্রণে আলিগড়ে আসা জিন্নাহর ওই প্রতিকৃতিটি তখন টাঙানো হয় এবং সেসময় তাকে ইউনিয়নের আজীবন সদস্যপদ দেওয়া হয়েছিল।

বিবিসি বলছে, ৮০ বছর পর সম্প্রতি আলিগড়ের বর্তমান বিজেপি এমপি সতীশ গৌতম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তারিক মনসুরকে চিঠি লিখে এর জন্য কৈফিয়ত চেয়েছেন।

তিনি বলেছেন, পাকিস্তান আজও ভারতকে বিরক্ত করে যাচ্ছে তার জন্মদাতার ছবি টাঙানোর দরকার কী? একই সঙ্গে সতীশ বিশ্ববিদ্যালয়কে অবিলম্বে ওই ছবি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আর এর পরই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভুয়া খবরের ভিডিও ও ছবি ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং অশান্তি ছড়ানোর আশঙ্কায় যাবতীয় ইন্টারনেট পরিষেবা শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।

এবিপি আনন্দ বলছে, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিয়ন হলে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি থাকায় হিন্দু যুবা বাহিনীর কয়েকজন কর্মী গত ২ মে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকে স্লোগান দেন, এক পর্যায়ে মারামারিও হয়।

এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। এরই মধ্যে কয়েকজন ছাত্র স্থানীয় সাংবাদিকদের ভেতরে ডেকে বেধড়ক মারধর করেছেন বলে অভিযোগ।

এ ব্যাপারে মুসলিম সংগঠন জমিয়ত উলেমা এ হিন্দের মহাসচিব মৌলানা মেহমুদ মাদানি বলেছেন, তাদের পূর্বপুরুষরা জিন্নাহকে কখনও আদর্শ বলে মানেননি, তার দ্বিজাতিতত্ত্ব সমর্থন পায়নি তাদের কাছ থেকে। সেই একই মত তাদেরও। ওই ছবি সরিয়ে ফেলার জন্য আলিগড়ের ছাত্রদের অনুরোধ করেছেন তিনি।

আলিগড়ের মুখপাত্র অধ্যাপক শাফে কিদওয়ই বলেন, আমাদের স্টুডেন্টস ইউনিয়ন একটি স্বাধীন সংস্থা। ছাত্ররাই তাদের নির্বাচিত করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে ইউনিয়নের কোনও সম্পর্ক নেই।

ছাত্র ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি মশকুর আহমেদ উসমানি বলেন, জিন্নাহর ছবি যেখানে আছে সেখানেই থাকবে। ১৯৩৮ সালের অবিভক্ত ভারতে তাকে সম্মান জানিয়ে তখনকার ছাত্র ইউনিয়ন জিন্নাহর ছবি লাগিয়ছিল। সে ছবি সরানো হবে না, আর কেউ যদি এখানে জাতীয়তাবাদের বিতর্ক তুলতে চায় তা বিরাট ভুল হবে।