মিয়ানমারের দায়মুক্তি পাওয়ার সুযোগ নেই: কানাডার দূত

নিউজ ডেস্ক: রোহিঙ্গা সংকটের দায় থেকে মিয়ানমারের মুক্তি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দেশটির সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আগ্রহ দেখালেও নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংস ভূমিকা এ মানবিক সংকটকে দীর্ঘায়িত করছে। অবশ্যই এ সংকটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করা যায় না।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে একক বক্তৃতায় এসব কথা বলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর রোহিঙ্গাবিষয়ক বিশেষ দূত বব রে।

রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস (সিপিজে) ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে বব রের একক বক্তৃতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিপিজের নির্বাহী পরিচালক মনজুর হাসান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ সাদ আন্দালিবসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

বব রে বলেন, ‘এর আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে ওই জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা শুনেছি। এ সংকটের প্রত্যক্ষ রূপ দেখতে রাখাইনে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ প্রথমে অনুমতি দেয়নি। পরে সেখানে গিয়ে দুর্ভোগ স্বচক্ষে দেখে এসেছি। নারী-শিশু এবং বয়স্কদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী যে ভয়াবহ অত্যাচার করেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আশ্রয় শিবিরে আসার পথেও অনেককে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।’

তিনি জানান, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সম্পর্কে এরই মধ্যে কানাডা সরকারকে তিনি বিস্তারিত প্রতিবেদন দিয়েছেন।

ওই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বব রে বলেন, প্রথমত, পালিয়ে আসা ৬ লাখ ৭১ হাজার রোহিঙ্গাকে নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, এসব মানুষের পূর্ণ রাজনৈতিক, সামাজিক অধিকারসহ নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যথাযথ উদ্যোগ দরকার এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্তকরণ, আইনের যথাযথ মূল্যায়ন ও প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং চতুর্থত, চলমান সংকট নিরসনে বিভিন্ন দেশকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বিশেষ দূত বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা বিশাল এ জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা, কর্মসংস্থান এবং নিরাপত্তার জোগান দিতে গিয়ে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এ সংকট মোকাবেলায় কানাডা বাংলাদেশের পাশে আছে। এরই মধ্যে কানাডা সরকার বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৩ কোটি ৭৫ লাখ ডলার মানবিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে চীন ও ভারতকে রোহিঙ্গা সংকট দ্রুত নিরসনে কার্যকর ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

এদিকে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়া ফ্রিল্যান্ড আজ কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাচ্ছেন। বব রে জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিনিও কক্সবাজার যাবেন।