শহীদজননী জাহানারা ইমামের জন্মবার্ষিকী

আজ (৩ মে) শহীদজননী জাহানারা ইমামের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতাসীন হন।তিনি স্বাধীনতাবিরোধী শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ করেন এবং সংবিধান পরিবর্তন করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতে ইসলামীসহ সকল স্বাধীনতাবিরোধী দলগুলোকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন।জিয়া পাকিস্তানি নাগরিক যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে দেশে ফিরিয়ে আনেন এবং ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে গোলাম আযমকে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেন। ঐ বৎসরের ২৮ ডিসেম্বর গোলাম আযম জামায়াতে ইসলামীর আমীর নির্বাচিত হন।

জাতির এমনি এক ক্রান্তিলগ্নে শহীদজননী জাহানারা ইমাম গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বাতিল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলনের ডাক দেন। ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি তিনি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠন করেন। ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ ২১তম স্বাধীনতাবার্ষিকীতে তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণআদালত গঠন করে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাবেশে গোলাম আযমের প্রতীকী বিচার করে ফাঁসির রায় দেন এবং এই রায় কার্যকরের জন্য সরকারকে সুপারিশ করেন।

শহীদজননী জাহানারা ইমাম সেদিন গণআদালতের মাধ্যমে যে আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন তারই ফলশ্রুতিতে আজ যুদ্ধপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে এবং নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধে ইতিহাস জানার জন্য ক্রমশ অগ্রহী হয়ে উঠছে।শহীদজননী জাহানারা ইমামের আন্দোলন বৃথা যায়নি, বৃথা যেতে পারে না।

আজ শহীদজননী জাহানারা ইমামের ৮৯তম জন্মবার্ষিকীতে বিনম্র।