রোগীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে অসাধু চক্র

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, দেশে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী নকল ও ভেজাল ওষুধ তৈরি ও বাজারজাতের মাধ্যমে জনগণের সাথে নিয়মিত প্রতারণা করে আসছে। রোগীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে এসব অসাধু চক্র। ভালো ও মানসম্মত ওষুধের মোড়ক এবং লেবেল নকল করে তারা অবৈধ ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে।

ফলে অনুমোদিত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রকৃত ওষুধ ব্যবসায়ীদের সুনাম ক্ষু্ণ্ন হচ্ছে। অনুমোদনহীন ভেজাল ওষুধ সেবন করে সাধারণ রোগীদের কোন উপকারই হচ্ছে না বরং স্বাস্থ্যহানি ঘটছে। এখন থেকে ওষুধ প্রশাসন, ওষুধ শিল্প মালিক সমিতি ও বিসিডিএস নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভেজাল ও নকল ওষুধের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুতে হবে।

একই সাথে অনুমোদনহীন নিম্ন মানের ভেজাল ওষুধ ও ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রেতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভেজাল ওষুধ উৎপাদনকারী ও বিক্রেতা যেই হোক ছাড় নেই। চট্টগ্রাম নগরীর স্টেশন রোডস্থ পর্যটন মোটেল সৈকতের পারকি হলে আয়োজিত সরকার কর্তৃক গৃহীত পাইলট প্রকল্পের আওতায় মডেল ফার্মেসী কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতি (বিসিডিএস) চট্টগ্রাম শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতে অনেক অগ্রগতি আছে। আমাদের ৯৮ শতাংশ ওষুধের চাহিদা নিজেরাই মেটাচ্ছি। ১৫০ দেশে ওষুধ রপ্তানি করে বাংলাদেশ। ওষুধের গুণগত মান দিন দিন বাড়ছে। মান ঠিক না থাকলে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ার মত দেশে ওষুধ রপ্তানি করা সম্ভব হতো না।

আমাদের ভাল ওষুধ আছে, ভাল ডাক্তারও আছে। শুধু মাত্র আস্থার অভাব রয়েছে। আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করতে হবে। আমাদের দেশেও বিশ^মানের হাসপাতাল হচ্ছে। ওষুধের ভেজাল আর থাকবে না। আমাদের রোগীরা নিজ দেশেই তাদের চিকিৎসা নেবেন। সব বিভাগে ও ২১ জেলায় ৩৭৬ টি মডেল ফার্মেসী করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে ৩৬টি রেডি আছে। এর মধ্যে ১১টি উদ্বোধন হয়েছে। এসব ফার্মেসীর বিশেষত্ব হচ্ছে ফার্মাসিস্ট ওষুধের ব্যবহার বিধি, পরিমাণ ক্রেতাকে ভাল ভাবে বুঝিয়ে দেবেন। সঠিক তাপমাত্রায় ওষুধ সংরক্ষণ করবে। ভাল কোম্পানির ওষুধ সুলভে বিক্রি করবে। পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ বিক্রি বন্ধে আইন করা হবে। বাজার থেকে নকল, ভেজাল ওষুধ বিতাড়িত করা হবে।

বিসিডিএস কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি সমীর কান্তি সিকদারের সভাপতিত্বে এবং অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদক লায়ন আশীষ কুমার ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মডেল ফার্মেসী কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বিসিডিএস কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মো. আবদুল হাই।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. রুহুল আমিন, সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প মালিক সমিতির মহাসচিব এস.এম শফিউজ্জামান, ওষুধ প্রশাসন চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মো. মোজাম্মেল হোসেন, ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক গুলশান জাহান, ওষুধ তত্ত¡াবধায়ক মো. শফিকুর রহমান, বিসিডিএস কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শাহজালাল বাচ্চু, সদস্য নাছির উদ্দিন আহমদ, হাসান নুরুল ইসলাম রাষ্ট্রন, আনোয়ার হোসেন মৃধা, রফিকুল ইসলাম রফিক, নূরুল গণি, মো. জাকির হোসাইন, কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের স্বত্তাধিকারী লায়ন প্রফুল্ল রঞ্জন সিংহ, ফার্মিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আহমেদ রবিন ইস্পাহানী, বিসিডিএস লক্ষ্মীপুর শাখার সভাপতি আবুল খায়ের ও নোয়াখালী চৌমুহনী শাখার সভাপতি আফতাব উদ্দিন চৌধুরী।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিসিডিএস চট্টগ্রাম শাখার অবৈতনিক সম্পাদক লায়ন আশিষ কুমার ভট্টাচার্য, সদস্য মো. মহসিন উদ্দিন, মহসীন উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, অশোক কুমার দাশ, শিবু প্রসাদ দাশ, বাবুল কান্তি লালা, নূরে আলম সিদ্দিকী, সুনীল কান্তি চৌধুরী, লিয়াকত আলী, রূপন কান্তি বড়–য়া, দিলীপ কুমার শীল ও বিভিন্ন থানা কমিটির সভাপতি-সম্পাদকবৃন্দ। অনুষ্ঠানে কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতির প্রায় ৫ শতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্স, ঢাকা