দক্ষিণ চীন সাগরে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে চীন

নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ চীন সাগরে জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপ করা যায়(সার্ফেস টু এয়ার) এমন ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম মোতায়েন করেছে চীন। দক্ষিণ চীন সাগরের নিজেদের তিনটি স্থানে এমন ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র পদ্ধতি স্থাপন করেছে চীন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন এর কথা উদ্ধৃত করে এ বিষয়ে স্থানীয় সময় বুধবার খবর প্রকাশ করেছে টিভি চ্যানেল সিএনবিসি।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, যদি এই খবর সত্য হয় তাহলে স্পার্টলি দ্বীপগুলোতে এটাই হবে চীনের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করার ঘটনা। যদিও দ্বীপগুলোর মালিকানা নিয়ে ভিয়েতনাম ও তাইওয়ানসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে চীনের। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে সাড়া দেননি চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সিএনবিসি’র খবরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের কথা উদ্ধৃত করে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো গত ৩০ দিনে ফিয়েরি ক্রস রিফ, সুবি রিফ ও মিসচিফ রিফে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, আমরা গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে মন্তব্য করিনা।

চীন এখন পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করেনি। তবে জানিয়েছে, স্পার্টলি দ্বীপগুলোতে মোতায়েন করা সকল সামরিক স্থাপনাই কেবলমাত্র প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। আর তারা নিজের জায়গায় যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক থিংক-ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক এন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ এর দক্ষিণ চীন সাগর বিশেষজ্ঞ গ্রেগ পোলিং বলেন, সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করাটা গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হবে স্পার্টলি’তে মোতায়েন করা প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র, হোক তা সার্ফেস টু এয়ার বা জাহাজ বিধ্বংসী। তিনি আরো বলেন, চীন এরকম কিছু করবে তা আগ থেকেই আঁচ করা গেছিলো। কেননা, চীন গত বছর প্রবাল প্রাচীরগুলোতে(রিফ) ক্ষেপণাস্ত্র আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করেছে এবং উডি দ্বীপে ইতিমধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম মোতায়েন করেছে।

পোলিং বলেন, চীনের জন্য এটা হবে দক্ষিণ চীন সাগরে আধিপত্য অর্জনের পথে একটা বিশাল পদক্ষেপ। অন্যান্য দাবিদারদের নিয়ে তিনি বলেন, এর আগে আপনি জানতেন যে, আপনি হচ্ছেন দাবিদারদের একজন। চীন আপনার প্রত্যেকটা পদক্ষেপের ওপরে নজর রাখছে। কিন্তু এখন আপনি জানবেন যে, আপনি চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরিধির ভেতরে চলাফেরা করছেন। এটা বেশ শক্ত ও আভাসিত হুমকি।

সিএনবিসি জানিয়েছে, ওয়াইজে-১২বি জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করে চীন ২৯৫ নটিক্যাল মেইল দুরের বস্তুতেও আঘাত হানতে সক্ষম। অন্যদিকে,দূর পাল্লার সার্ফেস-টু-এয়ার, এইচকিউ-৯বি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ১৬০ নটিক্যাল মাইলের ভেতরে বিমান, ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইল ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।