ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পের ভায়াডাক্ট স্টেশনের চুক্তি স্বাক্ষর

নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আইনি লড়াই ছাড়া বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার দ্বিতীয় কোনও পথ খোলা নেই।

সোমবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

‘আগামী নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দেওয়ার কৌশল নিয়েছে আওয়ামী লীগ’ বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়াকে তো সরকার জেলে রাখছে না। তাকে জেলে রাখছেন আদালত। আদালতে তারা ফাইট করুক। খালেদা জিয়ার ব্যাপারটায় তারা আইনিভাবে গেলে ভালো করবে। আইনি লড়াই ছাড়া খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার দ্বিতীয় কোনও পথ নেই।

তিনি বলেন, তারা এখন আন্দোলন-আন্দোলন করছে। আন্দোলনে কেউ সাড়া দেবে না। আন্দোলনে সাড়া দেওয়ার সময়ও নেই। সময় অনেক পেরিয়ে গেছে। জনগণ এখন নির্বাচনের মুডে আছে, আর তারা ডাক দিচ্ছে আন্দোলনের।

খালেদা জিয়ার চিকিত্সা নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করছে দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিত্সকরা বেগম জিয়াকে দেখেছেন। বিএনপি নেতারা যেভাবে কথা বলছেন ও চিত্কার করছেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে তারা বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়েও রাজনীতি করছে। এখানে চিকিত্সাটা দরকার, সে ব্যাপারে সরকারের কোনও গাফিলতি হবে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, একজন কারাবন্দির চিকিত্সা কোথায় হবে, এটা বিএনপি ঠিক করে দিতে পারে না। আমাদের নেত্রী যখন কারাগারে ছিলেন, তখন আমরা কিন্তু বলিনি এই হাসপাতালে নিয়ে আসুন, ওই হাসপাতালে নিয়ে আসুন। এটা চিকিত্সকরাই ঠিক করবেন। দরকার হলে মেডিক্যাল বোর্ড ঠিক করবে তার চিকিত্সা কি ভাবে হবে।

খালেদা জিয়াকে শিগগিরই কোনো বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘যাই হবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তরা ও চিকিত্সকরা ঠিক করবেন। এখানে বিএনপির কথা আর আওয়ামী লীগের কথায় বেগম জিয়ার চিকিত্সা হবে না। চিকিত্সার ব্যাপারটা ভিন্ন। এখানে কারাগারের নিয়ম আছে, চিকিত্সক আছে পরীক্ষা নীরিক্ষা করেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পের ৫ ও ৬ নম্বর প্যাকেজের আওতায় আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ভায়াডাক্ট স্টেশন নির্মাণে দুই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। পঞ্চম প্যাকেজের আওতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দু’টি পৃথক চুক্তি সই হয়।

প্রায় চার হাজার দুইশত কোটি টাকার দুটি পৃথক চুক্তিপত্রে ডিএমটিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক এবং লিড পার্টনার হিসেবে জাপানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেককেন করপোরেশন এর পক্ষে তাকাতোশি নিশিমুরা এবং জাপানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুমিটমো মিত্সুই কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড এর পক্ষে ইকুয়োকিতাদা চুক্তিতে সই করেন।

উল্লেখ্য, প্রায় বিশ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল রুট-৬ এর নির্মাণ কাজ আটটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তৃতীয় ও চতুর্থ প্যাকেজের আওতায় উত্তরা নর্থ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রায় বারো কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও নয়টি স্টেশন নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। চুক্তি অনুযায়ী দুটি প্যাকেজের মধ্যে পঞ্চম প্যাকেজের আওতায় আগারগাঁও থেকে কাওরান বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও তিনটি স্টেশন নির্মিত হবে এবং ষষ্ঠ প্যাকেজের আওতায় কারওয়ান বাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও চারটি স্টেশন নির্মিত হবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি একাব্বর হোসেন, সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান,সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো.নজরুল ইসলাম,সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসানসহ মন্ত্রণালয় এবং মেট্রোরেল প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।