রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তার প্রতিশ্রুতি নিরাপত্তা পরিষদের

নিউজ ডেস্ক: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নে সহায়তা করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রোহিঙ্গা অবস্থা দেখতে বাংলাদেশ সফরে আসা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের এক সদস্য সোমবার একথা বলেন।

মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ার আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিনিধি দলের সদস্য জাতিসংঘে কুয়েতের স্থায়ী প্রতিনিধি মনসুর আয়াদ আল-ওতাইবি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিয়ানমার, শরণার্থী ও বাকি বিশ্বের কাছে আমাদের বার্তা হচ্ছে, এই সংকটের একটি সমাধান খুঁজে পেতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

ব্রিফিংয়ের পর প্রতিনিধি দলটি মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলটি শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় একটি বিশেষ ফ্লাইটে সরাসরি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ওইদিন রাতেই উখিয়ার ইনানীতে হোটেল রয়েল টিউলিপে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারা।

পরদিন রোববার সকালে জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে যান। পরে সেখান থেকে তারা যান উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। সেখানে তারা রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তারা সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। ব্রিফিংয়ে তারা বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে এসেছে, তাই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে।

২৪ সদস্যের প্রতিনিধি দলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্সসহ জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশের প্রতিনিধি ছিলেন। এ ছাড়াও ছিলেন নেদারল্যান্ডস, কুয়েত, বলিভিয়া, ইথিওপিয়া, কাজাখস্তান, পেরু, পোল্যান্ড, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, বার্বাডোজ, জর্ডান ও আইভরি কোস্টের প্রতিনিধি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরই একই ইস্যুতে দু’দিনের সফরে মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।