রোহিঙ্গা প্রত্যবাসনে চীন ও রাশিয়া বাংলাদেশের পাশে থাকবে

নিউজ ডেস্ক: পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো মেজা-চুয়াদ্রার নেতৃত্বে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ও বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্টে যান। তারা রবিবার সকালে তুমব্রু সীমান্ত, উখিয়ার বালুখালী-২ ময়নারঘোনা ও কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

পর্যবেক্ষণের পর সংবাদ সম্মেলনে প্রতিনিধি দলের সদস্য গুস্তাভো মেজা জানান, ‘আমরা এই শরণার্থী সংকট দেখে খুব উদ্বিগ্ন। আমরা এই পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। রোহিঙ্গাদের জন্য যেন কিছু করতে পারি, তাই সমস্যাটিকে আরও ভালোভাবে জানার জন্য আমরা এখানে এসেছি। আর রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

কুয়েতের প্রতিনিধি মনসুর আল উতাইবি আশ্বাস দেন, ‘আমরা এখান থেকে মিয়ানমারে যাব ও সেখান থেকে নিউইয়র্কে ফিরে বিষয়টি নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা করব। তবে আমরা এমন কোনও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না যে দ্রুত কোনও ব্যবস্থা নেব।’

অপরদিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের চীন ও রাশিয়া প্রতিনিধিরা জানান, বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট নিরসন করতে হবে এবং তারাও এ সমস্যার দ্রুত সমাধান চায়। আর রোহিঙ্গা প্রত্যবাসনে চীন ও রাশিয়া বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

এসময় প্রতিনিধি দলের সাথে থাকা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের একটি সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং দেন। তার সাথে ছিলেন, শরণার্থী সচিব আবুল কালাম, চট্টগ্রামের রেঞ্জের ডিআইজি এএইচএম মনিরুজ্জামান, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার ড. একে ইকবাল হোসেন, উখিয়া সার্কেল চাই লাউ মারমা, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি একরামুল ছিদ্দিক ও উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের।

এরআগে শনিবার বিকাল ৪টা ২৫ মিনিটে কুয়েত থেকে বিমানযোগে সরাসরি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছেন ৩০ সদস্যের এই প্রতিনিধি দল। কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে এ প্রতিনিধি দল ইনানীর হোটেল রয়েল টিউলিপে যান বিকেল ৫টার দিকে।

তারা রবিবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বিমানযোগে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে। তাদের সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে বিমানযোগে ঢাকা ত্যাগ করবেন তারা।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। অভিযানের মুখে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। তারা উখিয়া ও টেকনাফের ৩০টি ক্যাম্পে অবস্থান নিয়েছেন।

জাতিসংঘ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ পশ্চিমা বিশ্বের অভিযোগ, এই অভিযানের সময় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ‘জাতিগত নিধন’,‘গণহত্যা’ ও ‘পদ্ধতিগত’ মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। যদিও শুরু থেকেই মিয়ানমার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার চুক্তি করেছে।